‘ছাদের চাবিই নেই!’ মন্ত্রীর ধমকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশনে বারাসত হাসপাতাল, কাটল গাফিলতির পর্দা

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের আকস্মিক পরিদর্শনের পর উত্তাল বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন হাসপাতালে পা রাখেন, তখন পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন। অপরিচ্ছন্নতা, অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ভরা এই সরকারি হাসপাতালের বেহাল দশা দেখে মন্ত্রী সরাসরি হাসপাতাল সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল অভিজিৎ সাহাকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। আর এই পরিদর্শনের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই, হাসপাতালের গাফিলতিতে জড়িয়ে থাকা ১২ জন কর্মীকে শোকজ করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার বিকেলে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বারাসত মেডিক্যাল কলেজে হাজির হন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি যখন ছাদ দেখতে চাইলেন, তখন অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি হয়। ছাদের চাবি খুঁজে পেতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের লেগে যায় প্রায় ১০ মিনিট। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে সুপারকে বলেন, “হাসপাতালে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা ছাদে উঠবেন কীভাবে? আপনাদের কাছে চাবিই নেই!”

শুধু ছাদের অব্যবস্থাই নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা দেখে মন্ত্রী বেজায় চটেছিলেন। সাংবাদিকদের সামনেই তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। হাসপাতাল সুপারকে তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের শোকজ করতে হবে। হাসপাতাল ছাড়ার আগে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে যান, “আমি আবার আসব। তবে কবে আসব, তা আপনারা জানবেন না।”

মন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বারাসত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। শোকজ করা হয়েছে হাসপাতালের ১২ জন কর্মীকে। তালিকায় রয়েছেন ৪ জন ওয়ার্ড মাস্টার, ৪ জন নন-মেডিক্যাল সুপার, একজন ইনফেকশন ইনচার্জ সিস্টার, প্রসূতি বিভাগের ২ জন সিস্টার ইনচার্জ এবং একজন ফেসিলিটি কোয়ালিটি ম্যানেজার। হাসপাতালের সুপার অভিজিৎ সাহা জানান, মন্ত্রীর নির্দেশের পরেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রীর দ্বিতীয়বার পরিদর্শনের ভয়ে এবং প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের কারণে শুক্রবার সকাল থেকেই বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে চরম তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা অব্যবস্থার জট খুলতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে স্থানীয়দের। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু শোকজ নয়, পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এই নজরদারি যেন নিয়মিত বজায় থাকে। বারাসত মেডিক্যাল কলেজের এই ঘটনা অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হয়ে রইল।