২০ বছরের আবর্জনার স্তূপ! শিলিগুড়ির খালপাড়ায় নরক যন্ত্রণা, কবে মিলবে মুক্তি?

শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলির অন্যতম খালপাড়া। কিন্তু সেই এলাকার বিবেকানন্দ রোডে পা রাখলেই চোখে পড়ে রাস্তার ওপর জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ। এই ভয়াবহ দৃশ্য গত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে এখানকার বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এই এলাকায় যাতায়াত করা অসংখ্য মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ এবং সংক্রমণের আশঙ্কায় এখানকার জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত।
স্থানীয় বাসিন্দা জ্যোতিষ দাস বলেন, “এত বছর ধরে একই সমস্যা দেখে আমরা ক্লান্ত। প্রতিদিন বাড়ির সামনে আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকে। শিশু থেকে প্রবীণ—সবাইকে এই তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যে চলাফেরা করতে হয়। বহুবার প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানিয়েছি, সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আজও অধরা।”
বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আবর্জনার পচাগলা দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব এবং সংক্রমণের আশঙ্কাও বহুগুণ বেড়ে যায়। অপর এক বাসিন্দা কানাই রায় বলেন, “এই রাস্তা শুধু আমাদের এলাকার নয়, বহু মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। বাইরে থেকে কোনো দর্শনার্থী এলে শহর সম্পর্কে অত্যন্ত খারাপ ধারণা নিয়ে ফিরে যান। নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার এবং নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার আধুনিক ব্যবস্থা না থাকলে এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব।”
শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর মনে নতুন করে আশার আলো জেগেছে। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর শহরের একাধিক নাগরিক সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। খালপাড়ার মানুষ এখন নতুন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তার ওপর জমে থাকা পাহাড়সমান আবর্জনা সরিয়ে ফেলা হোক এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের জন্য স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
একটি পরিচ্ছন্ন রাস্তা শুধু এলাকার সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ ঘোচাতে প্রশাসন কতটা দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। নাগরিকরা বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকি থাকলে বিবেকানন্দ রোড আগের মতোই পরিষ্কার ও বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।