মুর্শিদাবাদে বড়সড় ধরপাকড়! অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে লালগোলায় কড়া নজরদারি, আটক ৩২

মুর্শিদাবাদ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপর প্রশাসন। গত দুই সপ্তাহে পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথ অভিযানে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে সব মিলিয়ে ৩২ জন বিদেশি নাগরিককে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে, যা নিয়ে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

গত কয়েক মাসে মুর্শিদাবাদের লালগোলা, ভগবানগোলা এবং সামশেরগঞ্জসহ একাধিক এলাকায় অনুপ্রবেশের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওপার বাংলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও বিএসএফ রেলস্টেশন, হাট-বাজার এবং প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে রাতভর তল্লাশি চালাচ্ছে। সম্প্রতি ভগবানগোলা রেলস্টেশন থেকে নয়জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করার পর এই অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশি জেরার মুখে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আটক ব্যক্তিদের অনেকের কাছেই জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কীভাবে তাঁরা কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে সীমান্ত পার হলেন এবং স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী বা দালাল চক্র তাঁদের আশ্রয় দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে লালগোলার ‘পদ্মা ভবন’ নামক একটি ভবনের তৃতীয় তলায় তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে আটককৃতদের রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা এতটাই কড়া যে, সেখানে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে ধৃতদের বাংলাদেশে ফেরত (ডিপোর্টেশন) পাঠানোর প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন।

এই ধরপাকড় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সীমান্ত জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের বাড়বাড়ন্ত এবং জাল পরিচয়পত্রের ব্যবহার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। এই অভিযানকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সচেতন নাগরিকদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, নিয়মিত বৈধ নথিপত্র নিয়ে আসা শ্রমজীবী মানুষ বা আত্মীয়রা যেন এই অভিযানের ফলে কোনো ধরনের হেনস্তার শিকার না হন।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সীমান্তে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেবল অনুপ্রবেশকারীরাই নয়, এই অবৈধ কারবারে যারা দালাল হিসেবে কাজ করছে, তাদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের নাম জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। সীমান্তবর্তী এই জেলাকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আপাতত সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারির বার্তা দিচ্ছে।