কাজে ফিরুন অথবা পদত্যাগ করুন! নিষ্ক্রিয় পঞ্চায়েত প্রধানদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের

সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যের প্রায় দু’হাজার পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজকর্ম কার্যত থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ পঞ্চায়েত প্রধান নিয়মিত দফতরে আসছেন না, যার ফলে সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অবিলম্বে কাজে ফিরতে হবে, নতুবা নিতে হবে কঠিন আইনি ব্যবস্থা।

কেন এই কড়া বার্তা? সরকারি সূত্র অনুযায়ী, পঞ্চায়েত প্রধানদের অনুপস্থিতিতে জাতিগত শংসাপত্র, আয়ের শংসাপত্র বা বসবাসের শংসাপত্রের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ আটকে রয়েছে। এছাড়াও, নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং পুরনো বিল মেটানোর কাজও থমকে আছে। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মতে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়বদ্ধতা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

প্রধানদের উদ্দেশে মন্ত্রীর ৩টি মূল কথা:

  • সরাসরি হুঁশিয়ারি: যদি কোনো প্রধান দায়িত্ব পালনে ইচ্ছুক না হন, তবে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করাই শ্রেয়। সরকারি ভাতা নিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে চলা বরদাস্ত করা হবে না।

  • সমালোচনাকে ভয় নয়: মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অফিসে এলে হয়তো কিছু বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনা শুনতে হতে পারে, কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের মুখোমুখি হওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ। কাজ বন্ধ রাখা কোনো সমাধান নয়।

  • আইনি পদক্ষেপ: শুধুমাত্র অনুরোধ নয়, বরং আবেদন সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রশাসন এবার কঠোর আইনি পথে হাঁটতে চলেছে। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিতর্ক: এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সরকার প্রশাসনিক সমস্যার বদলে রাজনৈতিক ভাষ্য দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের দাবি, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন প্রকল্প এবং রাস্তা নির্মাণের মতো জনকল্যাণমূলক কাজ সচল রাখা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রীর এই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারির পর পঞ্চায়েত স্তরীয় অচলাবস্থা কত দ্রুত কাটে এবং গ্রামীণ পরিষেবা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে কি না।