রাম মন্দিরে টাকা চুরির পর্দাফাঁস! গ্রেফতার ৮, চম্পত রাইয়ের পদত্যাগ নিয়ে বড় আপডেট

অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি মন্দিরে দান সংক্রান্ত বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ। রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের দানবাক্স বা হুন্ডি থেকে ক্রমাগত টাকা ও সোনা চুরির অভিযোগে তোলপাড় চলছে। এই বিতর্কের মাঝে ট্রাস্ট দান গণনার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করেছে এবং নতুন নিয়মাবলী প্রণয়ন করেছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কড়া নজরদারিতে দান গণনা করা হবে।
সম্প্রতি অযোধ্যায় রাম মন্দিরের দানের অর্থে জালিয়াতির তদন্তে নেমে পুলিশ এবং স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) বড় সাফল্য পেয়েছে। বুধবার রাতে একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নগদ অর্থ, সোনার গয়না এবং একটি চারচাকা গাড়ি উদ্ধার করেছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম অনুকল্প মিশ্রর কাছ থেকে ২০,০০০ টাকা নগদ, সোনার চেন, একটি মোবাইল এবং একটি মারুতি সুইফট ডিজায়ার গাড়ি উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া, লাভকুশ মিশ্রের স্ত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সোনার লকেট ও ৩৮,০০০ টাকা। সবমিলিয়ে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও ব্যাংকিং লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করেছে SIT।
তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৪৫ দিনে অভিযুক্তরা মোট ৭০ বার দানবাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করেছে, যা মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। SIT-এর মতে, কর্মীদের নজরদারিতে গাফিলতি এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (SOPs) অভাবই এই চুরির মূল কারণ। তদন্তে ট্রাস্টের প্রাক্তন ট্রাস্টি ডঃ অনিল মিশ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাই পদত্যাগ করেছেন। যদিও ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজ জানিয়েছেন, চম্পত রাই কোনোভাবে ক্ষুব্ধ নন, বরং তিনি নতুন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে সমর্থন করছেন।
উল্লেখ্য, SIT যে আটজনকে গ্রেফতার করেছে, তাদের মধ্যে চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদবও রয়েছেন। অভিযোগ, টিন্নু কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়াই হুন্ডির চাবি নিজের কাছে রাখতেন। এই ঘটনা ধর্মীয় আবেগে আঘাত করেছে বলে বিরোধীরা সরব হয়েছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একে ‘দেশের বৃহত্তম লুঠ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে এখন তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক দানা বেঁধেছে, এবং SIT-এর চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।