পচা ডিম থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রোটিন পাউডার—সুইগি ইনস্টামার্টের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ গ্রাহকদের!

অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের রমরমা বাজারে ফের একবার অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভিযোগ সামনে এল। এবার খোদ ফুড রেগুলেটর এফএসএসএআই (FSSAI)-এর নিশানায় জনপ্রিয় কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘সুইগি ইনস্টামার্ট’। ক্রেতাদের একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণকারী এই সংস্থাটি সুইগি ইনস্টামার্টকে মোট ৯টি শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ, পচা, দূষিত এবং মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক খাদ্যপণ্য সরবরাহের মতো ভয়াবহ সব বিষয়।
এফএসএসএআই তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন একাধিক গুরুতর অনিয়ম প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হলো, এমন কিছু ডিম বিক্রি করা হচ্ছিল যার ব্র্যান্ড নাম কোম্পানির বৈধ এফএসএসএআই লাইসেন্সে স্বীকৃত পণ্যের তালিকার বাইরে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ, বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই ধরনের পণ্য বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে দ্রুত লাইসেন্স সংশোধনের জন্য আবেদন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় থাকা অভিযোগগুলো দেখলে গা শিউরে ওঠার মতো। গ্রাহকদের অভিযোগ, ‘হেলথIFY ১০০% হোয়ে প্রোটিন’ এবং ‘নয়েজ হোমস্টাইল মাদ্রাজ মিক্সচার’-এর মতো খাবার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। ‘অক্ষয়কল্প অর্গানিক ডিম’-এর ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে, সেই ডিম থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল এবং তাতে পচন ধরেছিল, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। একই রকম অভিযোগ এসেছে ‘কাক্কে দা পরাঠা’-র ক্ষেত্রেও। শুধু তাই নয়, শিশুদের জন্য তৈরি খাদ্যপণ্যও অত্যন্ত নিম্নমানের এবং असुरক্ষিত অবস্থায় গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, গ্রাহক ভুল পণ্য বা নষ্ট খাবার ফেরত দেওয়ার পরেও, সেই একই পচা পণ্য অন্য গ্রাহককে পুনরায় সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে সুইগি ইনস্টামার্টের বিরুদ্ধে। এফএসএসএআই-এর অভিযোগ, একাধিকবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও ফুড বিজনেস অপারেটর (FBO) কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায়নি।
এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে এফএসএসএআই সুইগি ইনস্টামার্টের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করেছে। কেন এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হলো এবং কোম্পানির নিজস্ব ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বা গুণমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিক কতটা সক্রিয়, তা নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বিষয়ে নেওয়া সুधारात्मक পদক্ষেপের খতিয়ানও চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি কোম্পানি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট, ২০০৬’ অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে এফএসএসএআই। ডেলিভারি অ্যাপের এই অস্বাস্থ্যকর কারবার নিয়ে এখন তুঙ্গে গ্রাহক সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক।