ওষুধের দামে স্বস্তি! ডায়াবেটিস থেকে হার্টের রোগ—৩৯টি জরুরি ওষুধের দাম বেঁধে দিল কেন্দ্র

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ফের ওষুধের দামে লাগাম টানল কেন্দ্রীয় সরকার। ড্রাগস (প্রাইস কন্ট্রোল) অর্ডার (DPCO), ২০১৩-এর আওতায় মোট ৩৯টি জরুরি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) বেঁধে দিয়েছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA)। ৮ জুলাই, ২০২৬ থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত? ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং সংক্রমণের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের সারাজীবন ওষুধ সেবন করতে হয়। ওষুধের অত্যধিক দাম যাতে সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে না চলে যায়, তা নিশ্চিত করতেই এনপিপিএ এই মূল্য নির্ধারণ করেছে। এখন থেকে নির্দেশিকায় উল্লিখিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কোনো সংস্থা ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।

কোন কোন রোগের ওষুধ সস্তা হলো? তালিকায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জীবনদায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী রোগের ওষুধগুলোকে:

  • ডায়াবেটিস: Glimepiride, Metformin, Sitagliptin, Empagliflozin, Dapagliflozin সহ বিভিন্ন কম্বিনেশন ড্রাগের দাম ৮.৮৫ টাকা থেকে ১৯.৩০ টাকার মধ্যে রাখা হয়েছে।

  • হৃদরোগ ও রক্তচাপ: Telmisartan, Amlodipine, Bisoprolol, Nebivolol সহ হৃদরোগের ওষুধ এবং কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের দাম প্রতি ট্যাবলেট ১০ থেকে ২১ টাকার মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

  • হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক: হার্ট অ্যাটাকের রক্ত জমাট ভাঙার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘Tenecteplase’ ইঞ্জেকশনের প্রতি ভায়ালের সর্বোচ্চ দাম ৬০,২৩৮.২৭ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

  • অন্যান্য: চোখের ড্রপ (Netarsudil, Nepafenac), অ্যান্টিবায়োটিক (Amoxicillin + Potassium Clavulanate), এবং শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভিটামিন ডি৩ সলিউশনের দামও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য কী সুবিধা? এই সিদ্ধান্তের ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে দীর্ঘস্থায়ী রোগী রয়েছেন, তাঁরা উল্লেখযোগ্যভাবে আর্থিক স্বস্তি পাবেন। সরকার এই তালিকার বাইরেও জনৌষধি কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

ওষুধের তালিকা যাচাই করবেন কীভাবে? এনপিপিএ-র এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাকে এই নতুন দাম মেনে চলতে হবে। কোনো ফার্মেসি বা বিক্রেতা যদি বেঁধে দেওয়া মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেন, তবে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।