ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি তেহরানের, পাল্টা ১০০০ মিসাইলের হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের!

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। শেষকৃত্যে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার প্রকাশ্য হুমকির পরপরই শনিবার কঠোর ভাষায় ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ধূলিসাৎ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প সরাসরি ইরানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু তেহরান উল্টো সুর ধরেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে তারা শুল্ক বা ফি আদায় অব্যাহত রাখবে। কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক জলপথের প্রথা ভেঙে ইরানের এই অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংঘাতের এই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তিনটি জাহাজে মার্কিন বিমান হামলার জেরে। এর বদলা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান যদি হুমকি অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের লক্ষ্য করে ১০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান উত্তাল। সপ্তাহের শুরুতে তার দীর্ঘস্থায়ী শেষকৃত্য ও মরদেহ ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে শোকযাত্রার সময় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার স্লোগান দেওয়া হয়। এরই জবাবে ট্রাম্পের হুঙ্কার, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের অস্তিত্বই মুছে ফেলতে সক্ষম। তিনি সরাসরি ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে, ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (CAIR) ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের আবহ থাকা সত্ত্বেও ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। যদিও ট্রাম্প ইরানের সাথে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা দলকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সমস্ত বিকল্পই এখন খোলা রাখা হয়েছে বলে ওয়াশিংটন সূত্রে খবর। মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।