‘নিজের ভবিষ্যৎ নয়, তৈরি করুন ভারতের ভবিষ্যৎ’, দেশের যুবসমাজের কাছে বিশেষ আহ্বান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর!

প্রতিরক্ষা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। শনিবার বিশাখাপত্তনম নেভাল ডকইয়ার্ডে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস মহেন্দ্রগিরি’-র কমিশন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে এক প্রেরণাদায়ক বার্তা দিয়েছেন। রাজনাথ সিংহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান সময়টি ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।

অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশের তরুণ প্রজন্মকে কেবল ক্যারিয়ারের পেছনে না ছুটে জাতীয় স্বার্থে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনারা যারা ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনোভেশন বা এন্টারপ্রেনিউরশিপের সঙ্গে যুক্ত, আজ ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের মেধা প্রয়োগের এর চেয়ে উপযুক্ত সময় আর নেই। আসুন, আমরা এমন যুদ্ধজাহাজ তৈরি করি যা আমাদের সমুদ্রসীমাকে সুরক্ষিত রাখবে। এমন সব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করি যা ভবিষ্যতের যুদ্ধের রূপরেখা বদলে দেবে এবং ভারতকে সত্যিকার অর্থেই স্বনির্ভর করে তুলবে।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তৃতায় উঠে এসেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা। তিনি জানান, কুরনুলে আটটি ড্রোন কোম্পানির সমন্বয়ে যে ‘ড্রোন সিটি’ গড়ে উঠছে, তা আগামী দিনে ভারতের প্রযুক্তি মানচিত্রে নতুন সংযোজন হতে চলেছে। রাজনাথ সিংহ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, যেভাবে সুরাট ‘ডায়মন্ড সিটি’ হিসেবে এবং বেঙ্গালুরু ‘সিলিকন ভ্যালি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, একইভাবে কুরনুল অদূর ভবিষ্যতে ভারতের ‘ড্রোন হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

রাজনাথ সিংহ আরও ব্যাখ্যা করেন যে, একটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ কেবল একটি নৌযান তৈরির প্রক্রিয়া নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে দেশের এক বিশাল শিল্প ইকোসিস্টেম। তিনি বলেন, “একটি জাহাজ নির্মাণের প্রক্রিয়ায় স্টিল, ইলেকট্রনিক্স, সেন্সর, প্রপালশন সিস্টেম, সফটওয়্যার এবং প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো একাধিক শিল্প ও লজিস্টিক সেক্টরের বিকাশ ঘটে। এই শিল্পগুলো একত্রে মিলে ভারতকে শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলছে।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত এবং সক্ষম। এটি দেশের মেধা ও প্রতিভাগুলোকে এক ছাতার নিচে আসার সুযোগ করে দিচ্ছে। দেশ গড়তে এবং দেশের সুরক্ষায় তরুণদের এই অংশগ্রহণই ভারতকে বিশ্বের দরবারে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। তরুণদের প্রতি তাঁর এই বার্তা কেবল কথার কথা নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার এক বাস্তব রোডম্যাপ।