এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্যমৃত্যু! শেষ ফোনালাপে কী কথা হয়েছিল? দানা বাঁধছে চরম ধোঁয়াশা

নীলরতন সরকার (এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চত্বরে কর্তব্যরত এক তরুণী নার্সের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা চিকিৎসা মহলে এবং পরিবারে গভীর ধোঁয়াশা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে ওই তরুণীর মৃত্যু হলো, তার কোনো সদুত্তর এখনও খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁর শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন মৃতের স্বামী রাহুল দাস। তাঁর দাবি, মৃত্যুর মাত্র কিছুক্ষণ আগেও স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছিল, যা এই মৃত্যুকে আরও বেশি রহস্যজনক করে তুলেছে।

পুলিশকে দেওয়া বিবরণে রাহুল জানিয়েছেন যে, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর স্ত্রী মেট্রোতে যাতায়াত করছিলেন। বাইরে বৃষ্টি পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি খুব সংক্ষেপে কথা শেষ করেন এবং পরে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। রাহুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই ফোনালাপে বিন্দুমাত্র কোনো অস্বাভাবিকতা বা মানসিক চাপের ছাপ ছিল না। কিন্তু তারপর ঠিক কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলো তাঁকে, তা কিছুতেই মেলাতে পারছেন না স্বামী। হাসপাতালের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং চিকিৎসাধীন বা কর্মরত অবস্থায় এই মর্মান্তিক পরিণতি কীভাবে এল, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।

ঘটনার পর থেকেই পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পেশায় বাড়ি থেকে অনলাইনে কাজ করা রাহুল জানান যে, স্ত্রীর এই আকস্মিক মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর কারণ রয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত পরিবার কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। এদিকে, প্রাথমিক অবস্থায় মৃত ওই নার্সের দেহের ময়নাতদন্তের স্থান নিয়ে পরিবারের কিছু আপত্তি ছিল। তাঁরা নির্দিষ্ট স্থানে ময়নাতদন্ত করাতে চাননি। পরবর্তীতে পরিবারের বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেহটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এখনও সেই চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এসে পৌঁছায়নি।

রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ও একমাত্র অগ্রাধিকার হলো তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা। বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা না হলেও, হাসপাতালের অভ্যন্তরে এ ধরনের একটি অনভিপ্রেত মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। শেষ ফোনালাপ থেকে শুরু করে হাসপাতালে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে পরিবার।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty