কেন মৃত ভক্তের শেষকৃত্যে যাননি ‘কেজিএফ’ স্টার যশ? বছর চারেক পর প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর কারণ

কন্নড় সুপারস্টার যশের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা এবং তাঁর অন্ধ ভক্তদের উন্মাদনা আজ কারোরই অজানা। ‘কেজিএফ’ (KGF) ফ্র্যাঞ্চাইজির অভূতপূর্ব সাফল্যের পর দেশজুড়ে যশের স্টারডম এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভক্তরা তাঁদের প্রিয় তারকার জন্য কতটা পাগল হতে পারেন, তার অজস্র নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। যশের এক ২৫ বছর বয়সী ভক্ত চরম পদক্ষেপ করে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া এক সুইসাইড নোটে তিনি নিজের জীবনকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেন যে, অভিনেতা যশ এবং তৎকালীন কর্ণাটকের বিরোধীদলীয় নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া যেন তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সশরীরে উপস্থিত থাকেন।
সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর সিদ্দারামাইয়া শেষকৃত্যে যোগ দিলেও অভিনেতা যশ সেখানে যাননি। যদিও সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে যশ তাঁর সমস্ত ভক্তদের এমন আত্মঘাতী ও চরম পথ বেছে না নেওয়ার জন্য জোরালো আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি এক জনপ্রিয় টক শো ‘আপ কি আদালত’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে যশ অবশেষে মুখ খুলেছেন এবং সেদিন তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ না দেওয়ার নেপথ্যের আসল কারণ সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেছেন।
সাক্ষাৎকারে যশ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো ভক্তের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যে গিয়ে অংশ নিলে সমাজে একটি ভুল বার্তা যেতে পারে বলে তিনি তীব্র আশঙ্কা করেছিলেন। অভিনেতা বলেন, “আমি মনে মনে ভেবেছিলাম, আমি যদি সেখানে যাই, তবে অনেকে হয়তো ভাবতে পারে যে এই ধরনের আত্মঘাতী পথ বেছে নেওয়াটা ঠিক আছে। কিন্তু এই মানসিকতা সম্পূর্ণ ভুল। ওই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় গিয়ে আমার আদতে কী লাভ হতো? আমি কি পরোक्षভাবে এই ঘটনাকে উৎসাহিত করতাম? আমি নিশ্চিত ছিলাম না, কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার ভাবনা এটাই ছিল। আমি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলাম, আমার ভীষণ খারাপ লেগেছিল। কিন্তু আমি যদি গিয়ে সেই কাজ করতাম, তবে হয়তো আরও অনেকেই ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে উৎসাহিত হতো।”
যশ সবসময় তাঁর অনুগামীদের নিস্বার্থভাবে ভালোবাসেন এবং তাঁদের সুখ-শান্তি ও সাফল্যই তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, একথা তিনি একাধিকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তবে তিনি কখনোই চান না যে তাঁর কোনো ভক্ত প্রিয় তারকার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বা দেখা করার জেদে নিজের অমূল্য জীবন বিপন্ন করুক। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে যোগ করেন যে, কোনো ভক্ত যদি নিজের জীবনে বড় কিছু অর্জন করে, কঠোর পরিশ্রম করে সফল হয় এবং ইতিবাচক পথে এগিয়ে যায়, তবে তিনি স্বয়ং নিজে থেকেই সেই ধরনের গুণী ও সফল ভক্তদের সঙ্গে দেখা করতে বেশি পছন্দ করবেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে কর্নাটকের মান্ডিয়া জেলার কোডিডোড্ডি গ্রামে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী যে যুবক গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন, স্থানীয় পুলিশ তাঁর নাম রামকৃষ্ণ বলে শনাক্ত করেছিল। তিনি অভিনেতা যশ এবং প্রবীণ নেতা সিদ্দারামাইয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া সেই নোটে তিনি তাঁদের দুজনকে শেষবারের মতো পাশে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, যশের এই সময়োপযোগী ও কড়া অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি কঠোর বার্তা হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।