বিশ্বজুড়ে ভূকম্পীয় অস্থিরতা যেন থামছেই না। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পর এবার প্রলয়ঙ্করী কম্পনে কেঁপে উঠল ইটালির উপকূল। মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ ইটালির টাইরেনিয়া সাগরের তলদেশে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৬.১ রেকর্ড করা হয়েছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, মাটি থেকে ২৫৩ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত এই কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রবল তরঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেসমোলজি জানিয়েছে, ভারতীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৩টে ৪২ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয়। যদিও কম্পনের মাত্রা ৬ ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রবল ভীতি সঞ্চার হয়, তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইটালির এই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সোমবার বিকেলে আমেরিকার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া কেঁপে ওঠে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে সূত্রে জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়া সিটির এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসের কাছে মাটি থেকে মাত্র ৩.৭ মাইল গভীরে এর উৎস ছিল। কম্পনের রেশ পামডেল পর্যন্ত অনুভূত হয়। বড় ভূমিকম্পের মাত্র দুই মিনিট পরেই ২.৬ মাত্রার একটি আফটার শক এলাকাটিকে পুনরায় কাঁপিয়ে দেয়। যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার এই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবে পর পর দুটি মহাদেশে ভূমিকম্পের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষের দিকে চিলির কালামা শহরে ৬.৯ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। দীর্ঘ ২০ সেকেন্ড ধরে চলা সেই কম্পনে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। চিলির সেই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮৯ কিলোমিটার গভীরে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে এই ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ঘটনা ভূতাত্ত্বিকদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল—প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেন পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী জুড়ে এই ঘনঘন কম্পন প্রাকৃতিক পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত। তবে সব মিলিয়ে ইটালির এই সাম্প্রতিক কম্পনে বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটায় সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জনমনে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলোকেও সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।





