উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার সাকচুড়া-বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা আজ আবাস যোজনার দুর্নীতি ও কাটমানি বিতর্কে উত্তাল হয়ে উঠল। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই আজ সকাল থেকে এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।
স্থানীয় বিজেপি সমর্থক ও ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই। অথচ, তৃণমূলের ওই দুই সদস্য দীর্ঘদিন ধরে গরিব মানুষের থেকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে হাজার হাজার টাকা কাটমানি আদায় করছেন। যারা টাকা দিতে পারেননি, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। আজ সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং আদায় করা কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে ওই দুই সদস্যের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিক্ষোভের জেরে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বসিরহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালানো হলেও বিক্ষোভকারীরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। তাঁদের সাফ দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং গরিব মানুষকে তাঁদের জমানো টাকা ফেরত দিতে হবে। এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা নিয়েও জনমনে বাড়ছে সন্দেহ।
আবাস যোজনা নিয়ে এই ধরনের দুর্নীতি নতুন নয়, তবে সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এখন ‘কাটমানি সিন্ডিকেট’ রাজ চলছে। গরিবের হক কেড়ে নেওয়া এই নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্ত শুরু হওয়ায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশায় রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে এই দুর্নীতির তদন্ত শেষ করতে পারে।





