এক ভোটের লড়াইয়ে সুপ্রিম ধাক্কা! মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে চরম ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত, কী হবে তামিলনাড়ুর বিধায়কের?

তামিলনাড়ু বিধানসভার আস্থা ভোট এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতায় এবার হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি বিতর্কিত নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, নির্বাচনী বিবাদের ক্ষেত্রে যে আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত ছিল, হাইকোর্টের নির্দেশ তার পরিপন্থী।

ঘটনার সূত্রপাত টিভিকে (TVK) বিধায়ক শ্রীনিবাস সেতুপতির জয়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিএমকে প্রার্থী কে আর পেরিয়ারকারুপ্পানের একটি আবেদনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনে পেরিয়ারকারুপ্পান মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, একটি পোস্টাল ব্যালট ভুলবশত অন্য নির্বাচনী এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর পক্ষে আসার কথা ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট একটি আদেশ জারি করে, যা পরোক্ষভাবে বিধানসভার আস্থা ভোট এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছিল।

সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করেন যে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ স্পষ্টতই আইন লঙ্ঘন। তিনি বলেন, “এই আদেশ যদি কঠোর সমালোচনার যোগ্য হয়, তবে তা হলো এটি।” অন্যদিকে, ডিএমকে প্রার্থীর পক্ষে মুকুল রোহাতগি এক ভোটের হারের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন।

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি মেহতার বেঞ্চ হাইকোর্টের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সংবিধানের ২২৬ ধারার অধীনে কীভাবে একটি রিট পিটিশন গ্রহণ করা হলো, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নির্বাচনী সংক্রান্ত কোনো বিবাদের প্রতিকার হলো ‘ইলেকশন পিটিশন’ (Election Petition), রিট পিটিশন নয়। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানায় যে, হাইকোর্ট নিজেই স্বীকার করেছে এর সঠিক প্রতিকার নির্বাচনী পিটিশন, অথচ তারপরেও তাঁরা রিট পিটিশন বিবেচনা করেছেন—যা সম্পূর্ণ ভুল।

শীর্ষ আদালত মাদ্রাজ হাইকোর্টের আদেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। পাশাপাশি বিবাদী পক্ষকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এই রায়ের ফলে আপাতত আইনি স্বস্তিতে রয়েছেন টিভিকে বিধায়ক শ্রীনিবাস সেতুপতি। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy