টলিউড এবং রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই খবর—মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রখ্যাত লেখিকা ও প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী জুলাই মাসে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই গত শুক্রবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এখনও কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর না এলেও, বিষয়টি নিয়ে আজ বুধবার এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে কমিশনের দফতরে।
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই পদত্যাগ কি নেহাতই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে কাজ করছে টলিপাড়ার সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতি? কয়েক মাস আগেই অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে উত্তাল হয়েছিল স্টুডিও পাড়া। শুটিং সেটে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর বিরুদ্ধে। রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা রিজেন্ট পার্ক থানায় ‘জিরো এফআইআর’ পর্যন্ত করেছিলেন। এমনকি ওড়িশার তালসারি থানায় গিয়েও লীনা ও শৈবালের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর থেকেই টলিউডে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়ে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’। শিল্পী থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান—সকলেই এই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, লীনার বেশ কিছু জনপ্রিয় সিরিয়াল বন্ধ হয়ে যায় এবং যেগুলি বর্তমানে চলছে, সেগুলোর দায়িত্ব সরাসরি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে। পদত্যাগ নিয়ে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “কমিশনের দফতর আমার কাজের জায়গা, সেটা এখনও অতীত হয়ে যায়নি। তাই আজকের বৈঠকে আমি উপস্থিত থাকব।”
তবে পদ ছাড়লেও হার মানতে নারাজ এই দুঁদে চিত্রনাট্যকার। তাঁর কথায়, “বিপর্যয় যাই ঘটুক, আমি কাজ থেকে কখনও দূরে সরে যাইনি। কাজেই আছি এবং কাজেই থাকব।” জুলাই মাসে দীর্ঘ ন’বছরের মেয়াদের পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কেন তিনি হঠাৎ সরে দাঁড়ালেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছেই। টলিপাড়ার একাংশের মতে, চতুর্মুখী চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত। তবে লীনা নিজে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী যে তিনি আবারও স্বমহিমায় ফিরে আসবেন। এখন দেখার, বুধবারের বৈঠকের পর রাজ্য মহিলা কমিশনের নতুন প্রধান হিসেবে কার নাম উঠে আসে।





