খাতায়-কলমে নিয়ম থাকলেও এতদিন তাকে তোয়াক্কা করত না বাইক আরোহীদের একাংশ। বিশেষ করে রাতের শহরে হেলমেট ছাড়াই গতির দাপট আর প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ছিল রোজকার ঘটনা। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার সেই ‘উচ্ছৃঙ্খলতা’ রুখতে কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের তরফে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করে হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রাত নামলেই কড়া নজরদারি: কলকাতা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, পুলিশের চোখ এড়িয়ে হেলমেট ছাড়াই যাতায়াত করেন বহু আরোহী। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এবার থেকে ট্র্যাফিক বিভাগ ও প্রতিটি থানাকে যৌথভাবে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। এডিজি (ট্র্যাফিক) নিজে এই অভিযানের নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন। বিশেষ করে রাতের বেলা যাতে কেউ হেলমেট ছাড়া রাস্তায় বেরোতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ট্র্যাফিক পুলিশ আধিকারিকদের মতে, একটি হেলমেট প্রাণ বাঁচাতে পারে জেনেও অনেকে তা এড়িয়ে চলেন— এবার সেই মানসিকতা বদলাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
অবৈধ টোলগেট নিয়ে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’: শুধু হেলমেট নয়, মঙ্গলবার রাতে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের দপ্তর থেকে আরও একটি বিস্ফোরক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, রাজ্যের আনাচে-কানাচে গজিয়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ টোলপ্লাজ়া এবং টোলগেট দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
জেলাশাসকদের নির্দেশ: পশ্চিমবঙ্গের সব জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, যেখানেই অবৈধ টোলগেট, ড্রপগেট বা ব্যারিকেড দিয়ে টাকা তোলা হচ্ছে, সেগুলি দ্রুত গুঁড়িয়ে দিতে হবে।
পুনরায় বসানোয় নিষেধাজ্ঞা: একবার উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় কেউ সেখানে কালেকশন পয়েন্ট না বসাতে পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। কোনো অবস্থাতেই যাতে সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটা না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
সরকার পরিবর্তনের পরেই ট্র্যাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার, পুলিশের এই মেগা অভিযানের পর শহরের সড়কগুলোতে কতটা শৃঙ্খলা ফিরে আসে।





