রেশন ব্যবস্থা নিয়ে এবার বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। সাধারণ মানুষের পাতে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চলা দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। সরকারের এই পদক্ষেপে রেশন গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের সুরাহা হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
খাদ্য দফতর সূত্রের খবর, এবার থেকে রেশনে প্যাকেটজাত আটা সরবরাহের প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। তার বদলে গ্রাহকদের সরাসরি গম দেওয়া হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আটার গুণমান নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসছিল। কোথাও আটার মান অত্যন্ত খারাপ, আবার কোথাও সরবরাহকারী মিল ও ঠিকাদারদের অসাধু চক্রের যোগসাজশে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই সরাসরি গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, যে সমস্ত রেশন ডিলারদের কাছে ইতিমধ্যেই আটার স্টক পৌঁছে গিয়েছে, গ্রাহকরা আপাতত সেই আটাই পাবেন। সরকারি গুদামে যেটুকু মজুত আছে, সেটুকুই বিলি করা হবে। তবে নতুন করে আর কোনও আটা বরাদ্দ করবে না দফতর। শীঘ্রই মন্ত্রী আটা সরবরাহকারী মিল কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। সেখানে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে যে, কাটমানি বা দুর্নীতির কোনও জায়গা এই ব্যবস্থায় নেই।
শুধু আটাই নয়, চালের গুণমান নিয়েও রণংদেহী মেজাজে রয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী জুন মাস থেকে যদি কোনও রেশন দোকানে নিম্নমানের চাল দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না। সরাসরি সেই দোকানের লাইসেন্স বাতিল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় থাকা কোটি কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে খাদ্য দফতর। সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া।





