উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানার দিহিগাছি গ্রামে মঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি করার ‘অপরাধে’ একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে বেধড়ক মারধর ও এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজির অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই হামলায় আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাড়োয়ার খাশবালান্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের দিহিগাছি গ্রামের ২২৭ নম্বর বুথ এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা মনো মুণ্ডার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী কোনো প্ররোচনা ছাড়াই এলাকায় চড়াও হয়। গ্রামবাসীদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করতে একের পর এক হাতবোমা ফাটানো শুরু করে তারা। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় বিজেপি কর্মী ৪৫ বছর বয়সি নিত্যানন্দ পারুই এবং তাঁর পরিবারের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। লাঠি, রড ও বাঁশ দিয়ে তাঁদের নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিত্যানন্দ পারুই, নমিতা পারুই এবং পরিতোষ সরদার। আক্রান্তদের আর্তনাদ শুনে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের পাঁচ সদস্যকে উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে গভীর ক্ষত রয়েছে এবং তাঁদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বাকি দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও এলাকায় আতঙ্ক কাটেনি।
বিজেপির বুথ সভাপতি সোমনাথ পারুই অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বিজেপি করি, এটাই আমাদের প্রধান অপরাধ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোনো কারণ ছাড়াই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এলাকায় বোমাবাজি করছিল। প্রতিবাদ করায় আমার কাকা সহ পরিবারের পাঁচজনকে লোহার রড দিয়ে মারা হয়েছে। আমার কাকার মাথা ফেটে গিয়েছে। তৃণমূল হেরে গিয়েও এলাকায় হিংসার রাজনীতি বজায় রাখতে চাইছে। আমরা পুলিশের কাছে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছি।”
বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকানন্দ ভাওয়াল জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং একে পারিবারিক বিবাদ বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে পুলিশি টহল চলছে।





