এই রাজ্যে এখনও কুসংস্কারের বলি মহিলা! পুরুলিয়ার চাপুরি গ্রামে ‘হাড়হিম’ কাণ্ড, দেওর-সহ গ্রেফতার ৬!

এক দিকে যখন আলোর উৎসব কালীপূজার আরাধনা চলছে, ঠিক তখনই চরম কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বলি হলেন এক আদিবাসী মহিলা। ‘ডাইনি’ অপবাদ দিয়ে তাঁকে খুন করার অভিযোগ উঠল দেওর-সহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। হাড়হিম করা এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার পাড়া থানার চাপুরি গ্রামে।

মৃতার নাম পদবী টুডু (৩৭)। এই ঘটনা ফের একবার সমাজের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা কুসংস্কারের ভয়াবহতা সামনে আনল।

কী ঘটেছিল কালীপূজার রাতে?

মৃতার স্বামী ও মেয়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদবী টুডুকে ‘ডাইনি’ বলে অপবাদ দিয়ে আসছিল তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও আত্মীয়দের একাংশ। এই পারিবারিক শত্রুতা থেকেই কালীপূজার রাতে পরিবারের মধ্যে তুমুল ঝামেলা শুরু হয়।

অভিযোগ, বিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে পদবী টুডুর ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। পাড়া থানার পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মুখ থেঁতলানো ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশ কী বলছে? ৬ জন গ্রেফতার

জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মোট আট জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মৃতার পরিবারের দুই মহিলা-সহ মোট ছয় জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, একটি মেয়ের অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিবাদ চরম আকার ধারণ করে এবং সেই কারণেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।

ঝাড়খণ্ডের ওঝাদের ‘সীলমোহর’?

সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের পরিবারের কয়েকজনের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের বোখারোর জেনামোডের ওঝাদের যোগাযোগ ছিল, যা ওঝা দের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। মনে করা হচ্ছে, ডাইনি অপবাদের পর ওঝারাই হয়তো সেই অপবাদে সীলমোহর দেয়, যার ফলস্বরূপ এই খুন।

অন্য দিকে, জেলা বিজ্ঞান মঞ্চের সম্পাদক নয়ন মুখার্জি এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চার বছর আগে আদ্রা থানা এলাকাতেও ডাইনি অপবাদে খুনের ঘটনা ঘটেছিল। নয়ন মুখার্জির দাবি, কুসংস্কার থেকেই ডাইনির জন্ম। তবে আগের তুলনায় সামাজিক এই ব্যাধি কিছুটা কমেছে। দ্রুত কুসংস্কার মোকাবিলায় বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে গ্রামে প্রচার চালানো হবে বলে তিনি জানান।

কালীপূজার রাতে এমন ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, আধুনিক সমাজেও কীভাবে কুসংস্কারের কালো ছায়া সমাজের কিছু অংশকে গ্রাস করে রেখেছে।