টাকা দিয়েও মিলল না মায়ের প্রসাদ! ভক্তদের হাতে ভাঙল ভোগের হাঁড়ি?

কালীপুজোর পরের দিনই চরম উত্তেজনা ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের শতাব্দী প্রাচীন বুড়াকালী মন্দির চত্বরে। আগে থেকে টাকা দিয়ে রসিদ কেটেও নির্ধারিত সময়ে বহু ভক্ত ভোগের প্রসাদ পাননি বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, ক্ষুব্ধ ভক্তদের হাতে ভোগের হাঁড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে বালুরঘাট থানার পুলিশ। পুলিশ এবং মন্দির কমিটির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করার পর শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে অবশ্য ভক্তদের প্রসাদ দেওয়া হয়েছে বলে মন্দির কমিটি সূত্রে খবর।
দেড়শো টাকা দিয়েও মেলেনি প্রসাদ!
প্রতি বছরের মতো এবারও কালীপুজোর পরের দিন সকাল থেকে মন্দির চত্বরে মায়ের প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভোগ বিলি হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসে দেড়শো টাকা দিয়ে রসিদ কাটার পরও বহু ভক্ত খালি হাতে ফিরে যান। এতেই চরম অসন্তোষ তৈরি হয়।
প্রশান্ত দাস নামে এক ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনেকে টাকা দিয়ে রসিদ কেটেও প্রসাদ পাননি। ক্ষোভে অনেকেই রসিদ ছিঁড়ে, ভোগের হাঁড়ি ভেঙে চলে গিয়েছেন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, মায়ের ভোগেও এখন যেন ব্যবসার ছায়া। টাকা দিয়েও যদি মায়ের প্রসাদ না মেলে, তবে ভক্তির মূল্য কত? ভিক্ষুকেরা আক্ষেপ করে জানান, প্রতি বছর মায়ের প্রসাদ পেলেও এ বছর তাঁরা এক কণাও পাননি। স্থানীয়দের দাবি, এই শতাব্দী প্রাচীন মন্দিরে এমন অব্যবস্থা নজিরবিহীন।
মন্দির কমিটির বক্তব্য
তবে মন্দির কমিটির সম্পাদক অমিত মহন্ত এই ঘটনাকে ‘বিক্ষিপ্ত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “কিছু ভক্তের ধৈর্যচ্যুতি থেকেই এই বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। আসলে পর্যাপ্ত প্রসাদ ছিল। কিন্তু সময়ের পর ভিড় বাড়তে থাকায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ভক্তদের প্রসাদ দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।