ইলিশ থেকে চিংড়ি—ফ্রিজে মাছ সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম না জানলে নষ্ট হবে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ

সুস্বাদু মাছ প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদানে ভরপুর একটি পুষ্টিকর খাবার। তবে প্রতিদিন বাজারে গিয়ে তাজা মাছ কেনা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না, ফলে মাছ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষার মরসুমে কম দামে ইলিশ পেলে তা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু মাছ নষ্ট হওয়ার আগেই তা কতদিন পর্যন্ত তাজা থাকে এবং সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি কী, তা জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণ ফ্রিজে মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তা ভালোভাবে প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়ে ভেতরের সম্পূর্ণ বাতাস বের করে দিতে হবে। এরপর ব্যাগটি বরফ ভর্তি পাত্রে রেখে সর্বোচ্চ দুই দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক ফ্রিজে রাখা সম্ভব। বাতাস মুক্ত করে না রাখলে মাছের গুণমান এবং নিজস্ব স্বাদ দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে। মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)-এর মতে, তাজা মাছ, চিংড়ি কিংবা স্কুইড ফ্রিজে মাত্র এক থেকে দুই দিন রাখা নিরাপদ। তবে স্যামন বা ট্রাউটের মতো মাছ তিন থেকে পাঁচ দিন ভালো থাকে। অন্যদিকে ম্যাকারেল বা সার্ডিনের মতো তৈলাক্ত মাছ তিন দিনের মধ্যে রান্না করে ফেলা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
দীর্ঘদিন মাছ সংরক্ষণ করতে চাইলে তা আর্দ্রতারোধী ফ্রিজার পেপার বা ফয়েল পেপারে ভালোভাবে পেঁচিয়ে ডিপ ফ্রিজে রাখতে হবে। সঠিক উপায়ে হিমায়িত করলে মাছের প্রোটিন ও ভিটামিনের মতো পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে, তবে একবার বরফ গলে গেলে সেই মাছ পুনরায় ফ্রিজে জমানো একেবারেই উচিত নয়। বাজার থেকে ভালো ও তাজা মাছ কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন টুকরোগুলি উজ্জ্বল দেখায়; অতিরিক্ত ধূসর বা শুষ্ক মাছ কেনা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। এছাড়া ছোট বা কুচো মাছ ফ্রিজে না রেখে তাজা থাকতেই রান্না করে ফেলা ভালো। বড় মাছের ক্ষেত্রে ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে সামান্য লেবুর রস মাখিয়ে রাখলে তা অনেক দিন গন্ধমুক্ত থাকে। সামুদ্রিক মাছ দীর্ঘস্থায়ী করতে বড় টুকরো করে এয়ার টাইট বক্সে জল ভরে ডিপ ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে ইলিশ মাছ ফ্রিজে রাখার আগে ভুলেও জল দিয়ে ধোয়া যাবে না; এর তেলতেলে ভাব ও আসল গন্ধ ধরে রাখতে আস্ত মাছ শুকনো টিস্যু দিয়ে মুছে বাতাসরোধী পলিথিন বা বক্সে ভরে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে।