মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আর ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেই বড় চাল চালল ভারত। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন আকাশছোঁয়া, তখন কৌশলে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি এক ধাক্কায় তিনগুণ বাড়িয়ে দিল নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনার পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ৫.৩ বিলিয়ন ইউরোতে, যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় প্রায় তিনগুণেরও বেশি।
কেন এই আকস্মিক বৃদ্ধি? বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় (ইরান-ইজরায়েল সংঘাত) অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো— বিশেষ করে ম্যাঙ্গালোর এবং বিশাখাপত্তনম রিফাইনারি— পুনরায় রুশ তেল কেনা শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারিতে আমদানি কিছুটা কমলেও মার্চ মাসে তা রেকর্ড হারে বেড়েছে।
ভারতের লাভ কোথায়?
বিশাল ডিসকাউন্ট: যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, ভারত ছাড় মূল্যে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।
আমেরিকার গ্রিন সিগন্যাল: একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য মার্কিন প্রশাসন রুশ তেলের ওপর বিশেষ ছাড় বা ‘ওয়েভার’ দেওয়ায় ভারতীয় তেল সংস্থাগুলোর জন্য লেনদেন সহজ হয়েছে।
জ্বালানি সুরক্ষা: অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি রুখতে পুতিনের দেশকেই সেরা বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে মোদী সরকার।
পরিসংখ্যান কী বলছে? রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্চ মাসে রাশিয়ার মোট খনিজ তেলের ৩৮ শতাংশই কিনেছে ভারত। যেখানে ফেব্রুয়ারিতে ভারত রুশ তেলের তৃতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ছিল, মার্চে তা লাফিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে (প্রথম স্থানে চীন)। এমনকি ইউরোপের অনেক দেশ রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও, ভারত থেকে পরিশোধিত সেই তেলই পরোক্ষভাবে যাচ্ছে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে।
কূটনৈতিক জয়: ভারত একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে রাশিয়ার থেকে তেল কিনে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। পশ্চিমী দেশগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও নিজের ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ বা জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।





