ইরানের বিমান ধরলেন না মোহনবাগান ফুটবলাররা! নিরাপত্তার ‘অজুহাতে’ এএফসি কাপ খেলতে অস্বীকার, আদালতের দ্বারস্থ সবুজ-মেরুন

আশঙ্কা সত্যি করে ফের একবার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইরানের মাটিতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-টু’য়ের ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বিদেশি ফুটবলারদের আপত্তির পর অবশেষে ক্লাব কর্তৃপক্ষ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠিন সিদ্ধান্ত জানাল। এই পরিস্থিতিতে সমাধানের জন্য ক্লাব কোর্ট অব অরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (CAS)-এর দ্বারস্থ হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
হোসে মোলিনার দলের শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের বিমান ধরার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার ইস্যুটি প্রাধান্য পাওয়ায়, শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করা হয়।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ক্লাব ফুটবলার, আধিকারিক এবং সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তা এবং স্বাচ্ছন্দ্যের দিকটি অগ্রাধিকার সহকারে দেখা হচ্ছে। আমাদের ফুটবলার ও তাঁদের পরিবার ইরানে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।”
ক্লাব আরও জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং ফুটবলারদের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখেই আন্তর্জাতিক খেলাধুলোর সর্বোচ্চ আদালত ‘CAS’-এ পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতবারের পুনরাবৃত্তি, অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসের উদ্বেগ
উল্লেখ্য, এটি গত বছরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। গত বছরও সেদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মোহনবাগান ট্রাক্টর এফসি’র বিরুদ্ধে খেলতে যেতে অস্বীকার করেছিল।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ইরানের সেপাহান এসসি’র বিরুদ্ধে এসিএল-টু’য়ের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার কথা ছিল সবুজ-মেরুনের। প্রাথমিকভাবে ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও, সেপাহান এসসি ম্যানেজমেন্টের উদ্যোগে সেই সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু, তারপরেও নিরাপত্তার ইস্যুটি প্রকট হয়। জানা যাচ্ছে, ইরানে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস বন্ধ থাকায়, অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলাররা সেখানে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলে সেদেশের সরকার কোনো দায়িত্ব নেবে না বলে মনে করছেন। ফলে তাঁরা ইরান যেতে অস্বীকার করেছেন।
বিদেশি ফুটবলারদের এই আপত্তির পর ক্লাব দেশীয় ফুটবলারদের নিয়েও ঝুঁকি নিতে চায়নি। গ্রুপের দুর্বল দল আহাল এফকে’র বিরুদ্ধে ০-১ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু করায়, দেশীয় ব্রিগেড নিয়ে গিয়ে বড় ব্যবধানে হারের একটা ঝুঁকিও ছিল।
তবে, এএফসি কাপের ম্যাচ খেলতে ইরান যেতে অস্বীকার করলেও, ক্লাব কিন্তু রাজ্য ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা আইএফএ’কে শিল্ড খেলার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে। এখন দেখার, ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে মোহনবাগানের এই আবেদনে সর্বোচ্চ আদালত কী রায় দেয়।
মোহনবাগানের এই সিদ্ধান্ত কি সঠিক? নিরাপত্তার জন্য টুর্নামেন্টে না খেলা উচিত, নাকি দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই সবচেয়ে জরুরি?