ইজরায়েলের ‘হিটলিস্টে’ ইরানের শীর্ষ নেতা! যুদ্ধবিরতি বাঁচাতে তেহরানকে বাঁচাল আমেরিকা?

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার আবহে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা যাতে কোনোভাবেই ভেস্তে না যায়, সেজন্য ইজরায়েলের ওপর বিশেষ চাপ সৃষ্টি করেছিল মার্কিন প্রশাসন। ইজরায়েল যাতে ইরানের দুই শীর্ষ নেতা—পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে লক্ষ্য করে কোনো ড্রোন বা বিমান হামলা না চালায়, তা নিশ্চিত করতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে সতর্ক করেছিল আমেরিকা।

মূলত, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি আলোচনার পথ মসৃণ রাখাই ছিল বাইডেন প্রশাসনের লক্ষ্য। আমেরিকার আশঙ্কা ছিল, যদি এই দুই শীর্ষ নেতার ওপর কোনো প্রাণঘাতী হামলা হয়, তবে ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে এবং শান্তি আলোচনার সমস্ত সম্ভাবনা চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। যদিও ইজরায়েল প্রথম থেকেই এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দিহান ছিল। তেল আভিভের ধারণা ছিল, এই চুক্তির ফলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা হবে এবং নিজেদের সামরিক শক্তি পুনরায় সংহত করার সুযোগ পাবে।

‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকেই আরাগচি এবং গালিবাফ ইজরায়েলের ‘হিটলিস্টে’ ছিলেন। বারবার মার্কিন চাপে ইজরায়েল তাদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হলেও, সম্প্রতি পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। সূত্র মারফত জানা যায়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে গালিবাফের বৈঠকের পরই তাঁর ওপর হামলার ছক কষে ইজরায়েল। ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্পিকার গালিবাফকে বহনকারী বিমানকে লক্ষ্য করে দুটি ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানি আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। পরিস্থিতি বুঝে তড়িঘড়ি বিমানটিকে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী মাশহাদ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। পরবর্তীতে গালিবাফ সড়কপথে তেহরানে পৌঁছান।

এত কিছুর পরেও শান্তি আলোচনা কিন্তু থমকে থাকেনি। প্রাণনাশের ঝুঁকি মাথায় নিয়েও মে মাসে আরাগচি এবং গালিবাফ কাতার ও সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। তবে ইজরায়েলের অসন্তোষ স্পষ্ট। জুন মাসে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে, তাকে ইজরায়েল ‘বিপর্যয়’ হিসেবেই দেখছে। এখন দেখার, ইজরায়েলের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মুখে আমেরিকা কতদিন ইরানকে সুরক্ষা কবচ দিয়ে শান্তি বজায় রাখতে পারে।