ইউসুফ পাঠানের পরিবারে চরম অস্বস্তি! মুম্বইয়ে পথচারীকে বেধড়ক মারধর, গ্রেফতার খোদ সাংসদের শ্বশুর ও শ্যালক

ফের বিতর্কের শিরোনামে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের পরিবার। মুম্বইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় এক স্থানীয় বাসিন্দাকে মারধর ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ইউসুফ পাঠানের শ্বশুর এবং শ্যালকসহ তিন আত্মীয়কে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি সামান্য তুচ্ছ বিষয় নিয়ে:
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ খান (৩০) গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাঁর গাড়ির চাকা একটি গর্তে জমে থাকা জলে পড়ে গেলে, সেই জল ছিটকে গিয়ে লাগে পথচারী শোয়েব খানের (৩৫) গায়ে। উল্লেখ্য, এই শোয়েব খান সাংসদ ইউসুফ পাঠানের আত্মীয়। জল ছিটকে আসার পরেই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। ইউসুফ খান গাড়ি থামিয়ে ক্ষমা চাইলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। অভিযোগ, শোয়েব গালিগালাজ শুরু করেন এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভেঙে দেন।

দ্বিতীয় দফায় হামলা ও সংঘর্ষ:
আক্রান্ত ইউসুফ খান বাড়ি ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে তাঁরা তাঁকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু থানায় যাওয়ার পথে ইউসুফ খানের পরিবারের পথ আটকান ইউসুফ পাঠানের শ্বশুর খালিদ খান এবং তাঁর ছেলে উমরশাদ খান (৩৫)। পুলিশ জানায়, সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন শোয়েব ও শেহবাজ পাঠানসহ একদল যুবক। অভিযোগ, বাঁশের লাঠি এবং বেসবল ব্যাট নিয়ে ইউসুফ খান ও তাঁর আত্মীয়দের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। এই প্রাণঘাতী হামলায় ইউসুফ খানের ভাই সলমনের হাত ভেঙে যায় এবং তাঁর কাকা জাকি আহমেদ গুরুতর জখম হন।

পুলিশি পদক্ষেপ ও মামলা:
তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে ঘটনায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে হামলার কাজে ব্যবহৃত বেসবল ব্যাট ও লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত খালিদ খান, উমরশাদ এবং শোয়েবকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চতুর্থ অভিযুক্ত শেহবাজ পাঠানের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১১৮(২), ১১৫(২), ৩২৪, ৩৫২, ৩৫১(২) এবং ৩(৫) সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ভোটের মুখে দলীয় সাংসদের পরিবারের এমন কর্মকাণ্ডে তৃণমূল শিবিরের জন্য অস্বস্তি বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।