ফুটবল মাঠ না কি কুরুক্ষেত্র? রবিবার প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের ‘ডেফেনসোরেস দেল চাকো’ স্টেডিয়ামে যা ঘটল, তাতে গোটা বিশ্বের ক্রীড়ামহল স্তম্ভিত। দেশের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব— অলিম্পিয়া ও সেরো পোর্তেনোর মধ্যকার ‘সুপার ক্লাসিকো’ ম্যাচ শেষ পর্যন্ত পরিণত হল এক বীভৎস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। ২৯ মিনিটের মাথায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা, আর মাঠের ভিতর ও বাইরে আহত হন অন্তত ৫০ জন।
কীভাবে শুরু এই তাণ্ডব?
প্যারাগুয়ের প্রিমেরা ডিভিশনের পয়েন্ট টেবিলে এই দুই দলই শীর্ষে রয়েছে। ফলে ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা ছিল চরমে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেরো পোর্তেনোর সমর্থকরা টিকিট ছাড়াই গায়ের জোরে মাঠে ঢুকে পড়েন। এরপরই তারা নিজেদের গ্যালারি থেকে বিপক্ষ সমর্থকদের লক্ষ্য করে জ্বলন্ত আতশবাজি ছুড়তে শুরু করেন। নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন, যখন পুলিশের দাবি অনুযায়ী, বোতলে মূত্র ভরে তা অলিম্পিয়ার গ্যালারির দিকে ছুড়তে শুরু করে উত্তেজিত জনতা।
পুলিশের ওপর হামলা ও টিয়ার গ্যাস:
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়তে শুরু করে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সেরো পোর্তেনো সমর্থকরা। তারা সশরীরে মাঠে নেমে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি আক্রমণ শুরু করে। এই হামলায় অন্তত ৬ জন পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক যে তাঁদের জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
গ্রেপ্তারি ও পয়েন্ট বিতর্ক:
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, খেলা ভেস্তে যাওয়ার পর এখন শুরু হয়েছে পয়েন্টের লড়াই। অলিম্পিয়া দাবি করেছে, যেহেতু বিপক্ষ সমর্থকদের কারণে গণ্ডগোল হয়েছে, তাই ৩ পয়েন্ট তাদেরই প্রাপ্য। পালটা সেরো পোর্তেনোর দাবি, অলিম্পিয়ার হোম গ্রাউন্ডে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব তাদেরই ছিল, তাই পয়েন্ট কাটলে স্বাগতিক দলেরই কাটা উচিত। শেষ পর্যন্ত এই অমীমাংসিত লড়াইয়ের মীমাংসা কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।





