ইউসিসি কি শুধুই রাজনৈতিক চমক? নারী সুরক্ষার নামে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিরোধিতায় সরব বামপন্থী মহিলা সংগঠন

রাজ্যে নারী সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন করে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)-এর কোনো প্রয়োজন নেই। বৃহস্পতিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব এই দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, দেশে বর্তমানে নারী নিরাপত্তা ও অধিকার সংক্রান্ত যে আইনগুলি বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলিকে সঠিকভাবে কার্যকর করলেই নারীদের প্রগতি ও সমতা সম্ভব।
সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, রাজ্য সরকার ইউসিসি লাগু করার জন্য যে তোড়জোড় চালাচ্ছে এবং বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, তা আদতে একটি রাজনৈতিক কৌশল। বিজেপি ও আরএসএস এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মহিলা সমিতি। সংগঠনের দাবি, সরকার প্রচার করছে ইউসিসি লাগু হলে মুসলিমদের বহুবিবাহ রদ হবে এবং নারীরা অধিকার পাবেন। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যমান গার্হস্থ্য হিংসা বিরোধী আইন, পণপ্রথা বিরোধী আইন বা বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনগুলিই সরকার সঠিকভাবে কার্যকর করছে না। বর্তমান পরিকাঠামোয় এই আইনগুলোর সুফল প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলারা পাচ্ছেন না বলেই দাবি তাঁদের।
আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী শামীম আহমেদ এবং নারী আন্দোলনের নেত্রী মালিনী ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে সকলের জন্য এক দেওয়ানি বিধি অলীক স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁদের মতে, অর্থনৈতিক সমবণ্টন, সকলের জন্য খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত না করে ইউসিসি চাপিয়ে দেওয়া মানেই হলো বিভাজনের রাজনীতি। সভায় উপস্থিত কর্মীরা প্রশ্ন তোলেন, স্বামী-পরিত্যক্তা হিন্দু বা আদিবাসী মহিলাদের অধিকার রক্ষা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কেন উদ্যোগী নয়?
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নারী নিগ্রহের প্রতিবাদে আগামী ২০ জুলাই শিয়ালদা থেকে এন্টালি পর্যন্ত এক বড় প্রতিবাদ মিছিল ও সভার ডাক দিয়েছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। সংগঠনের নেত্রী মোনালিসা সিনহা জানিয়েছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত দু’মাসে প্রায় ৪০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আগামী ৩০ জুলাই একটি গণ কনভেনশন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা। মোনালিসার অভিযোগ, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার ইউসিসি-র মতো বিতর্কিত বিষয় চাপিয়ে দিয়ে আসল সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে। সামগ্রিকভাবে, এই আলোচনা সভা থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইউসিসি নয়, বরং বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারই ভারতীয় নারীদের প্রকৃত সুরক্ষা দিতে পারে।