আর্ট কলেজের ডিগ্রি নয়, শুধু বাবার থেকে শেখা! ৯০ বছরের এই শিল্পী আজও প্রতিমা গড়েন ভালোবাসার টানে

একানব্বই বছর বয়স। শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ, একটু হাঁটলেই ক্লান্তি। তবুও এত কিছুকে তোয়াক্কা না করে একমনে প্রতিমা গড়ে চলেছেন মুরারী মোহন পাল। তাঁর হাতের জাদুতে জীবন্ত হয়ে ওঠে দশভূজা দুর্গা। কুমোরটুলির এই প্রবীণ শিল্পীর কাছে বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা, আর তার শিল্পীসত্তা বয়সের ভারকে ছাপিয়ে গেছে বহুদূর।
শিল্পজীবন: বাবার হাতেখড়ি থেকে ছেলে পর্যন্ত
মুরারী মোহন পালের শিল্পজীবন শুরু হয় ছোটবেলায়, তাঁর বাবা প্রমথ পালের কাছে। প্রথাগত শিক্ষা না পেলেও, বাবার কাছেই তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল। বাবার নির্দেশেই তিনি খেলার ছলে মাটি দিয়ে নানা মূর্তি তৈরি করতেন। ১৯৫২ সালে কুমোরটুলি থেকে তাঁর পরিবার উত্তরপাড়ায় চলে আসে। এরপর হুগলিতে নিজের স্টুডিও তৈরি করে সেখানেই কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে তিনি ছেলে জয়ন্ত পালকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেন। জয়ন্ত আর্ট কলেজ থেকে গোল্ড মেডেল পেলেও পারিবারিক এই পেশাকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার কাজ শেখা বাবার থেকে। তিনি দাদুর থেকে শিখেছেন এবং তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত শিল্পীদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই সব অভিজ্ঞতা আমার মধ্যে এসেছে।”
ভালোবাসার টানেই কাজ করে চলেছেন
মুরারীবাবু বলেন, যতদিন সুস্থ থাকবেন, ততদিন কাজ করে যাবেন। ভালোবাসা আর সৃষ্টির নেশাই তাঁর কাজের মূল অনুপ্রেরণা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি ছেলে ও অন্যান্য কারিগরদের সঙ্গে কাজ করে চলেন। বয়সের কারণে মাঝে মাঝে চোখ ঘোলাটে হয়ে এলেও, খানিক বিশ্রাম নিয়ে আবারও কাজে মেতে ওঠেন।
তাঁর তৈরি মূর্তি শুধু উত্তরপাড়া নয়, কলকাতার বিভিন্ন নামী ক্লাব এবং বাড়িতেও যায়। এই বছর উত্তরপাড়াতেই ১৭টি দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছেন তাঁরা। এই স্টুডিওতে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লক্ষ টাকা দামের প্রতিমা তৈরি হয়। মুরারী মোহন পালের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং শিল্পীসত্তাই প্রমাণ করে যে, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে কত দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।