ড্রোন আতঙ্ক শেষ! পাকিস্তানের সব নাপাক ষড়যন্ত্র গুঁড়িয়ে দিতে ময়দানে নামল ভারতের ব্রহ্মাস্ত্র ‘শত্রুঞ্জয়’

ভারত তার আকাশসীমার নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে এবং সীমান্তপারের যেকোনো নাপাক ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে ময়দানে নামিয়েছে এক নতুন ও अचूक ব্রহ্মাস্ত্র—‘শত্রুঞ্জয়’। গত কয়েক বছর ধরে সীমান্তে ড্রোন সন্ত্রাস এবং অস্ত্র ও মাদকের চোরাচালান ভারতের নিরাপত্তার বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এবার দেশের প্রতিরক্ষায় বড় পরিবর্তন এনে সম্পূর্ণ সদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি কাউন্টার আনমড এরিয়াল সিস্টেম (CUAS) বা ‘শত্রুঞ্জয়’ সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যার নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বিজয়ের হুংকার।
দিল্লির ডিফেন্স টেকনোলজি কোম্পানি ‘ভূমি অ্যান্ড’-এর তৈরি এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটি সরাসরি ভারতীয় সেনার যুদ্ধকালীন প্রয়োজনীয়তাকে মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। এর মূল কাজ হলো আন্তর্জাতিক সীমান্ত, স্পর্শকাতর সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে শত্রুর নজরদারি ড্রোন থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা। ‘শত্রুঞ্জয়’ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) ডিটেকশন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা প্রায় ৪ কিলোমিটারের মধ্যে উড়ে বেড়াওয়া যেকোনো গোপন ড্রোনকে সহজেই চিহ্নিত করতে পারে। সিস্টেমটির অ্যান্টিনা-ভিত্তিক সিগনেচার ডিটেকশন প্রযুক্তি পলক ফেলতে না ফেলতেই বলে দিতে পারে ড্রোনটি কোন দিক থেকে অপারেট করা হচ্ছে।
সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো, এই সিস্টেমটি শত্রুর ড্রোনকে ধ্বংস করতে একটিও গুলি খরচ করে না। এটি সম্পূর্ণ ‘সফট কিল’ (Soft Kill) প্রযুক্তিতে কাজ করে। অর্থাৎ, আকাশে ড্রোন উড়ন্ত অবস্থাতেই এটি তার কন্ট্রোল সিগন্যাল সম্পূর্ণ জ্যাম করে দেয়। এর পাশাপাশি জিপিএস স্পুফিং ও জেসন ডিসরাপশন প্রযুক্তির সাহায্যে শত্রু ড্রোনটির নেভিগেশন সিস্টেম পুরোপুরি ভেরিয়ে দেয়, যার ফলে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ড্রোনটি আকাশে বিকল হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। শত্রুর যেকোনো অত্যাধুনিক ড্রোন হোক না কেন, ‘শত্রুঞ্জয়’-এর চক্রব্যূহ ভেদ করা তাদের পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই সিস্টেমটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে দুই ধরনের अचूक জ্যামিং ক্ষমতা রয়েছে—ওমনি ডিরেকশনাল জ্যামিং (প্রায় ২ কিমি পর্যন্ত কার্যকর) এবং ডিরেকশনাল জ্যামিং (যা সরাাসরি ৫ কিমি পর্যন্ত শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম)। সবচেয়ে বড় কথা, এটি অত্যন্ত নমনীয়; অর্থাৎ ভারী সামরিক যহানে মাউন্ট করার পাশাপাশি জওয়ানরা এটি পিঠে বয়ে সরাসরি দুর্গম সীমান্তে নিয়ে যেতে পারেন। মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের হাড়কাঁপানো শিয়াসিন থেকে শুরু করে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মরুভূমির দাবদাহ—সবরকম প্রতিকূল আবহাওয়াতেই এটি নিখুঁত কাজ করতে পারে। ৩০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত এটি কার্যকর। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক ট্র্যাকিং সিস্টেম থাকায় পাকিস্তানের সমস্ত অপচেষ্টা এখন হাওয়াতেই মিলিয়ে যাবে।