আয়ুষ্মান কার্ডের টোপ দিয়ে ৫০ কোটির জমি হাতবদল! বারাণসীতে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে এক গুরুতর জালিয়াতির ঘটনা সামনে এল উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে। গুরুতর অসুস্থ এক কিডনি রোগীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ৫০ কোটি টাকার জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি সুরেশ কুমার সিং সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে। বারাণসী আদালতের নির্দেশে রোহানিয়া থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ওম প্রকাশ মিশ্রকে ঘিরে। ওম প্রকাশ দীর্ঘ দিন ধরে কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ডায়ালিসিসের প্রয়োজন ছিল তাঁর। অভিযোগ, চিকিৎসার খরচ কমানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর ভাইপো বিশাল মিশ্র ও তাঁর সহযোগীরা একটি সুপরিকল্পিত ছক কষে। বিশাল ওম প্রকাশকে পরামর্শ দেন যে, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরি করলে তিনি পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে ওম প্রকাশ তাঁর প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও মোবাইল নম্বর তাঁদের হাতে তুলে দেন।
অভিযোগ, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশাল মিশ্র, রবি উপাধ্যায়, বরুণপতি উপাধ্যায়, প্রবীণ সিং, নীতীশ রায়, বিজেপি নেতা সুরেশ কুমার সিং, অজয় তিওয়ারি, প্রশান্ত সিং, অনিল কুমার এবং সত্যংশু সিং মিলে একটি দানপত্রের মাধ্যমে ওম প্রকাশের প্রায় ৬৫ বিঘা জমি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পত্তি জবরদখল করে নেয়। এরপর সরকারি অফিসের কিছু অসাধু কেরানির যোগসাজশে জাল নথিপত্র তৈরি করে সেই সম্পত্তি এস্টেটের নামে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
ওম প্রকাশের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পরিবারের সদস্যরা আয়ুষ্মান কার্ডের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। কিন্তু সেই সময় ভাইপো বিশাল বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যেতে থাকেন। সন্দেহ হওয়ায় ওম প্রকাশের স্ত্রী প্রমিলা মিশ্র মোরাদাবাদে কর্মরত তাঁদের ছেলেকে বিষয়টি জানান। ছেলে বারাণসীতে এসে গঙ্গাভুর জেলা রেজিস্ট্রেশন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি ইতিমধ্যেই গোপনে বিক্রি হয়ে গেছে। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন প্রমিলা মিশ্র। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত ১০ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও বড়সড় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।