ভারতীয় ক্রিকেটের আকাশে উদিত হলো নতুন এক নক্ষত্র। মাত্র ১৫ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে সাড়া ফেলে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে আইপিএলে তাবড় তাবড় বোলারদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী ব্যাটিং—বৈভবের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিল ভারতীয় জার্সি।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ডেবিউ ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ডটি ছিল শচীন তেন্ডুলকরের দখলে। বৈভব জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামলেই সেই রেকর্ড ভেঙে যাবে। তবে বাবার কথায়, “রেকর্ডের চেয়ে দেশের সাফল্যই আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
সাফল্যের নেপথ্যে রহস্য: বৈভবের এই অসামান্য সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিক দৃঢ়তা:
মেডিটেশন ও পরিকল্পনা: ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ বোলারদের চাল বুঝতে বৈভব দীর্ঘক্ষণ স্টাম্পের পেছনে চোখ বন্ধ করে মেডিটেশন করেন।
লক্ষ্যভেদ: বৈভবের ক্রিকেট খেলা শুরু হয় মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। বাবা তাঁর হাতে প্রথম ব্যাট-বল তুলে দিয়েছিলেন। নয় বছর বয়স থেকেই স্থানীয় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই লাল বলে ক্রিকেট খেলতেন। সঞ্জীবের দাবি, অন্যরা যখন ৫০ রান করার কথা ভাবত, তখন বৈভব সেঞ্চুরি করত। আর সেই সেঞ্চুরির সংখ্যাটা জানলে সকলেই অবাক হবেন। এক একটি মরসুমে এই ওয়ান্ডার কিডের ব্যাট থেওকে আসত ৪০-৫০টি শতরান। ৫০ ওভারের এক ম্যাচে একাই ৩৩২ রান করে তিনি প্রথমবার সবার নজর কেড়েছিলেন।
সহজ দর্শন: আইপিএলে জসপ্রীত বুমরা বা হ্যাজেলউডের মতো বোলারদের বিরুদ্ধে ছক্কা মারার রহস্য জানতে চাইলে তিনি ঠান্ডা মাথায় উত্তর দিয়েছিলেন, “আমি বোলার দেখি না, শুধু বল দেখি।”
পরিবারের উচ্ছ্বাস: ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী বলেন, “এত কম বয়সে সুযোগ পাব ভাবিনি।” অন্যদিকে, মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি সশরীরে মাঠে বসে দেখার প্রতীক্ষায় রয়েছেন তিনি। বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে তাঁর এই আবেদন মঞ্জুরও করা হয়েছে।
তরুণ প্রতিভাদের উদ্দেশ্যে বৈভবের বাবার পরামর্শ, “কাউকে নকল করো না, নিজের প্রতিভাকেই বড় করো।” আজ বৈভবের সাফল্যে উৎসাহিত গোটা দেশ। ক্রিকেট মহলের ধারণা, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এখন এই কিশোরের হাতেই সুরক্ষিত।





