‘আমাদের বদনাম করতেই এই চক্রান্ত!’ তসলিমার বাংলাদেশ তুলনা নিয়ে মুখ খুললেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান!

কলকাতার বুকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাঁড়িয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি দিল্লির বুকে নিট প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি তার তুলনা টানেন প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং নেপালের সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের সঙ্গে। তসলিমার এই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়ে গেছে। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবার জোরালো আক্রমণ শানিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

রবিবার কলকাতার একটি প্রেস কনফারেন্সে তসলিমা নাসরিনকে দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি নিজে এই আন্দোলন সম্পর্কে খুব একটা বিশদে জানি না। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা বিভিন্ন মাধ্যমে যে ভিডিও ক্লিপগুলো সামনে এসেছে, তা দেখে আমার ঠিক ২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে বিশাল ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল, ঠিক তারই প্রতিচ্ছবি বলে মনে হয়েছে। ওই ছাত্র আন্দোলন আসলে আমাদের সম্পূর্ণ বোকা বানিয়েছিল। আমরা প্রথমের দিকে ভেবেছিলাম সাধারণ ছাত্ররাই বোধহয় পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন ওই সরকারের পতন হলো, তখন আমরা স্পষ্ট প্রমাণ পেলাম যে এই পুরো আন্দোলনের নেপথ্যে চরমপন্থী শক্তি বা জিহাদিরা কলকাঠি নাড়ছিল।” তসলিমা কেবল বাংলাদেশ নয়, একই সঙ্গে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গটিও টেনে আনেন।

নির্বাসিত লেখিকার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ বা নেপালের চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে দিল্লির ছাত্র আন্দোলনকে এক করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাঁর মতে, তাঁদের আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক স্তরে বা রাজনৈতিক স্বার্থে বদনাম করার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এই ধরনের তুলনা টানা হচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করেন, ভারতের যুবসমাজ এবং এখানকার সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা।

পাশাপাশি, নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন নিয়ে সম্প্রতি যে সমস্ত প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তারও অত্যন্ত সোজাসাপ্টা জবাব দিয়েছেন দীপকে। একজন সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর সন্তান হয়ে তিনি কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে সম্প্রতি সুরাতের এক সক্রিয় আরটিআই কর্মী দীপকের বাবার আর্থিক স্বচ্ছতা ও সম্পত্তির উৎস নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। সেই সমস্ত রাজনৈতিক আক্রমণ ও গুঞ্জনের জবাব দিয়ে দীপকে দাবি করেন যে, তিনি কোনো রকম অবৈধ বা দুর্নীতির টাকায় বিদেশে পড়েননি। তিনি সম্পূর্ণ নিজের মেধার জোরে বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ বা বৃত্তি পেয়েছিলেন। এছাড়া পড়াশোনা চালানোর জন্য তিনি সরকারি নিয়ম মেনে বড় অংকের শিক্ষণ ঋণ বা এডুকেশন লোন নিয়েছিলেন, যার একটা বড় অংশের ঋণ এখনও শোধ করা বাকি রয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন যে, যেকোনো তদন্তকারী সংস্থা চাইলে তাঁর এই আর্থিক লেনদেন ও ঋণের কাগজপত্র নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দেখতে পারে।

তদন্ত ও আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা আরও আশা প্রকাশ করেন যে, মহারাষ্ট্র সরকার অচিরেই সমস্ত রাজনৈতিক ও অন্যায্য এফআইআর প্রত্যাহার করে নেবে। সম্প্রতি নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশজুড়ে পরীক্ষার ব্যাপক অনিয়মের বিরুদ্ধে যে জোরালো বিক্ষোভ শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন করেছিল, তাদের বিনা কারণে আইনি হয়রানি করা থেকে প্রশাসন বিরত থাকবে বলেও তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, দিল্লির যন্তরমন্তরের চত্বরে নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে সিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনে দেশের ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে অভূতপূর্ব এবং ব্যাপক সাড়া মিলেছিল। যার ফলস্বরূপ গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। দীপকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে সামান্য মন্তব্যের জেরে যদি মাত্র ১৫ বছর বয়সি এক নাবালক আন্দোলনকারী রুচিকা সিংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর এফআইআর দায়ের করতে পারে, তবে অতীতে যেসব বিজেপি নেতা ও আইটি সেলের সদস্যরা আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে এফআইআর দায়ের করা উচিত। পরিশেষে তিনি ঘোষণা করেন যে, সাম্প্রতিক এই সফল বিক্ষোভের পর তাঁদের রাজনৈতিক দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সিজেপি দলটিকে আরও বড় পরিসরে দেশজুড়ে বিস্তার করা হবে।