“আগে বিয়ে, তবেই ভালোবাসার কথা!”- তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে ওয়েইসির মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া?

ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে বেরিয়ে এবার সম্পূর্ণ এক ভিন্ন এবং ব্যক্তিগত বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন সর্বভারতীয় মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। সাধারণত দেশের নীতি, আইন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কিংবা সংখ্যালঘু অধিকারের মতো গুরুগম্ভীর ইস্যু নিয়ে সরব থাকতে দেখা গেলেও, সম্প্রতি একটি প্রকাশ্য জনসভায় যুবসমাজ ও তরুণ প্রজন্মের প্রেম, রোম্যান্টিক সম্পর্ক এবং বিবাহ নিয়ে এমন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, যা নিমেষেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গেছে। খোদ এআইএমআইএম দলের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেই তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপিং শেয়ার করা হয়েছে, যা দেখার পর থেকেই তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তরুণ প্রজন্মকে      উদ্দেশ্য করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি অত্যন্ত খোলামেলা সুরে বলেন, “আমরা সাধারণত মানুষকে উপদেশ দিই যে স্ত্রীদের সবসময় ‘আই লাভ ইউ’ বলুন। কিন্তু আমি আজ যুবসমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় পরামর্শ দিচ্ছি—যাকে আপনারা ভালোবাসেন, সবার আগে তাঁকে আইনসম্মতভাবে বিয়ে করুন। বিয়ের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরই তাঁকে ‘আই লাভ ইউ’ বলুন। কারণ, বিয়ে করলেই অর্ধেকের বেশি প্রতিশ্রুতি ও সম্মান আপনাআপনি সম্পন্ন হয়ে যায় এবং অর্ধেক ভরসা জয় করার কাজটা সেই আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই হয়ে যায়।” তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিওটি সামনে আসতেই তা মুহূর্তের মধ্যে নেটদুনিয়ার নজর কেড়ে নেয়।

শুধু তরুণ প্রজন্মকে বিয়ের এই অভিনব পাঠ দেওয়াই নয়, পাশাপাশি অন্য এক নেতার ব্যক্তিগত প্রसंग টেনে এনে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও অত্যন্ত রসাত্মক ভঙ্গিতে ভাগ করে নেন এই প্রবীণ সাংসদ। নিজের একটি পুরনো ঘটনার কথা স্মরণ করে ওয়েইসি বলেন, “একবার আমি অন্য এক রাজনৈতিক নেতার ছেলেকে অবিলম্বে বিয়ে করার কড়া পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই তরুণ তখন আমাকে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি আগে নিজের পায়ে আর্থিকভাবে দাঁড়াতে চান, তারপর বিয়ের কথা ভাববেন। তাঁর সেই কথা শুনে আমি তাঁকে পালটা জবাব দিয়ে বলেছিলাম—ভাই, আমার তো বয়স হয়ে গিয়েছে, দাড়ি পেকে গেছে, কিন্তু আমি আজও পাকাপাকিভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে উঠতে পারিনি। তাই বলছি, বেকার আগেভাগে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অজুহাত দিয়ে সময় নষ্ট কোরো না। সবার আগে বিয়ে করে নাও, বাকি সমস্ত পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।”

এখানেই শেষ নয়, বক্তৃতার অন্য একটি পর্যায়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েননি এআইএমআইএম প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও তাঁর পরিবারহীন অবস্থাকে কটাক্ষ করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বলেন, “যাঁদের পরিবারের আপন বলতে কেউ থাকে না, তাঁরাই আসলে অন্যের জীবনে নানা ধরনের সমস্যা ও দুর্ভোগ ডেকে আনেন। আপনারা তো দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা নিজের চোখেই পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছেন, তাই না? বিষয়টি কি আপনারা বুঝতে পারছেন না?”

উল্লেখ্য, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির এই ধরনের ব্যতিক্রমী মন্তব্য এই প্রথম নয়। এর আগেও দেশের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়ে একাধিকবার সুর চড়িয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা ছিল, অ-হিন্দুদের ওপর জোর করে হিন্দু আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের সমকামিতা ও সমলিঙ্গের বিবাহ সংক্রান্ত রায়ের পর তাঁকে প্রকাশ্যে বলতে শোনা গিয়েছিল যে, ভারতে বিবাহ সর্বদাই একজন পুরুষ এবং একজন নারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তবে আজকের এই রোম্যান্স ও বিয়ের ওপর তাঁর এই নতুন তত্ত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি প্রচুর হাসির খোরাকও জুগিয়েছে। একদিকে যখন তরুণ প্রজন্ম তাঁর এই অদ্ভুত যুক্তিকে নিয়ে ট্রোল করছে, অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক অনুগামীরা এটিকে একেবারে অন্য দৃষ্টিতে দেখছেন। সব মিলিয়ে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির এই ফেস্টিভ সিজনে দেওয়া ‘আগে বিয়ে, পরে প্রেম’ তত্ত্ব রাজনীতি এবং বিনোদনের দুনিয়ায় সমানভাবে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।