স্কোয়াক-৭৫০০ কোডে হুলস্থুল! জয়পুর বিমানবন্দরে নামানো হলো এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান, আসল রহস্য কী?

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান AI-2030-কে ঘিরে আচমকাই বিমান ছিনতাই বা হাইজ্যাকের চরম অ্যালার্ট জারির খবর সামনে আসতেই তৈরি হলো তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য। ঘটনার পরপরই বিমানটিকে রাজস্থানের জয়পুর বিমানবন্দরে নিয়ে গিয়ে নিরাপদ জরুরি অবতরণ (ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং) করানো হয়। মূলত আমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) থেকে এই অ্যালার্ট পাওয়ার পরেই সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থা একযোগে তৎপর হয়ে ওঠে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফ্লাইটের পাইলট ভুলবশত ইমার্জেন্সি কোড পাঠিয়ে ফেলেছিলেন। তবে বিষয়টিকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে না নিয়ে সমস্ত যাত্রীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমান থেকে নামিয়ে রানওয়ের নিরাপদ স্থানে বা আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মুহূর্তে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সমস্ত যাত্রীদের টার্মিনালে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং পুরো বিমানটিকে খতিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।

আভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানটি ওড়ার সময় তার পাইলট মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য ‘স্কোয়াক-৭৫০০’ (Squawk-7500) কোড চালু করেছিলেন। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়মানুযায়ী, এই বিশেষ কোডটি বিমান ছিনতাই বা বিমানে কোনো বেআইনি দখলের আশঙ্কার সময়েই একমাত্র ব্যবহার করা হয়। ফলে এই অ্যালার্ট পাওয়া মাত্রই সময় নষ্ট না করে আকাশপথেই বিমানটির গতিপথ বদলে জয়পুরে অবতরণ করানোর নির্দেশ দেয় এটিসি। বিমান চলাচলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বিমানটিকে জয়পুর বিমানবন্দরের পৃথক আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে অন্য কোনো সাধারণ ফ্লাইটের ক্ষতি না হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে আকাশপথে ছিনতাই বা হাইজ্যাকের আশঙ্কায় হুলস্থুল কাণ্ড এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানেও (FZ1073) ঠিক একইভাবে হাইজ্যাকের অ্যালার্ট জারি হয়েছিল। ওই বিমানেও চালকপ্রধানে জরুরি বার্তা ‘৭৭০০’ এবং ‘৭৫০০’ কোড দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, বিমানের ওমানি কো-পাইলট আসল পাইলটের ওপর হামলা চালিয়ে ইজরায়েলের বিমানবন্দরে বিমানটিকে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত অন্যান্য পাইলট ও যাত্রীদের তৎপরায় সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়। বর্তমানে জয়পুরের ঘটনার ক্ষেত্রে পাইলট কেন ভুল কোড পাঠালেন, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।