আপনার অজান্তেই অন্যের সিম কার্ড ব্যবহার করছেন না তো? বড় বিপদে পড়ার আগেই এই কাজ করুন!

আজকের দিনে মোবাইল সিম কার্ড আমাদের জীবনের এক অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। কলিং থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং, অনলাইন পেমেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মতো একাধিক অতি প্রয়োজনীয় কাজ সিম কার্ড ছাড়া একপ্রকার অসম্ভব। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার অজান্তেই আপনার নামে রেজিস্টার্ড কোনো অচেনা সিম কার্ড আপনাকে এক মারাত্মক আইনি বিপদে ফেলতে পারে? যদি কোনো ব্যক্তি আপনার নাম বা পরিচয় জালিয়াতি করে সিম কার্ড তোলে অথবা আপনার নামে ইস্যু করা কোনো নম্বর অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। তাই সময় থাকতেই আপনার নামে ঠিক কটি মোবাইল নম্বর সচল রয়েছে, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
মোবাইল কানেকশনের অপব্যবহার রোধ করতে টেলিকম ব্যবহারকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে টেলিকম বিভাগ (DoT)। নতুন টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট, ২০২৩-এর কঠোর নিয়মাবলী অনুযায়ী, এই আইনের কোনো রকম লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে। যদিও অপরাধের ধরন এবং আইনি বিধানের ওপর ভিত্তি করে এই শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। নিজের পরিচয়পত্র বা আইডেন্টিটি অন্য কাউকে বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে দেওয়া, ভুয়া নথিপত্র দিয়ে সিম তোলা কিংবা সেই নম্বর সাইবার জালিয়াতিতে ব্যবহার করার ফল হতে পারে মারাত্মক।
আপনার নামে কতগুলি সিম কার্ড অ্যাক্টিভ রয়েছে তা জানতে এখন আর কোনো টেলিকম স্টোরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব সহজেই ঘরে বসে সরকারের ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi) পোর্টালের মাধ্যমে আপনি এই তথ্য জানতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট sancharsaathi.gov.in-এ গিয়ে ‘সিটিজেন সেন্ট্রিক সার্ভিসেস’ (Citizen Centric Services) সেকশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনার ১০ অঙ্কের মোবাইল নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে লগইন করার পর রেজিস্টার্ড নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেটি সাবমিট করলেই আপনার নামে থাকা সমস্ত মোবাইল নম্বরের একটি তালিকা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।
তালিকায় যদি এমন কোনো নম্বর দেখতে পান যা আপনি চেনেন না বা ব্যবহার করেন না, তবে অবিলম্বে পোর্টালে গিয়ে ‘নট মাই নম্বর’ (Not My Number) অপশন সিলেক্ট করে রিপোর্ট করতে হবে। আর যদি নম্বরটি আপনার হয় কিন্তু বর্তমানে তার আর কোনো প্রয়োজন না থাকে, তবে ‘নট রিকোয়ার্ড’ (Not Required) বিকল্পটি বেছে নিতে পারেন। অভিযোগ দায়ের করার পর টেলিকম বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাই সামান্য সচেতনতা এবং কয়েক মিনিটের এই প্রক্রিয়া আপনার ডিজিটাল জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।