NEET-UG প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বিরাট মোড়! সিবিআইয়ের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম জড়াল নতুন অভিযুক্তের!

বহুল আলোচিত NEET-UG ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে আরও এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। অভিযুক্তের নাম শেষরাও বজরং সূর্যবংশী। সম্প্রতি দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটের ওপর আদালতে গুরুত্বপূর্ণ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট ১৩ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মূল চার্জশিট জমা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সেই চার্জশিটের ওপর ভিত্তি করে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আদালত ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাটি গ্রহণ করেছে। তবে তদন্ত থামিয়ে রাখেনি সিবিআই; বরং গোটা চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে লাগাতার তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেই নিরবচ্ছিন্ন তদন্তের ভিত্তিতেই এবার গত ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া শেষরাও বজরং সূর্যবংশীর বিরুদ্ধে এই অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করা হলো।
গত সপ্তাহেই চার্জশিট জমা দেওয়ার সময় সিবিআই সূত্রে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। তদন্তকারী সংস্থার স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, এই মামলায় দাখিল করা চূড়ান্ত চার্জশিটে কোনো কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক বা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র শীর্ষ কোনো কর্তার নাম থাকছে না। এখনও পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণের সন্ধান মিলেছে। অভিযুক্তদের এই তালিকায় রয়েছে এনটিএর তরফ থেকে নিযুক্ত খোদ বিষয় বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন নামী কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি, সক্রিয় দালালচক্র এবং বেশ কিছু পরীক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, এই হাই-প্রোফাইল মামলার প্রথম চার্জশিটটি আদালতে জমা পড়েছিল গত ২৮ জুলাই। সেই চার্জশিটে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, যার মধ্যে এনটিএর নিযুক্ত তিনজন বিষয় বিশেষজ্ঞও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্নপত্র তৈরির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় ধাপে একই বিশেষজ্ঞদের বারবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের একেবারে শেষ ধাপে এসে ওই নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞরা চারটি মাস্টার প্রশ্নপত্রই খুঁটিয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। এর ফলে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত এমন প্রশ্নপত্র তৈরির কাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের হাতেই দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য মজুত ছিল, যা তদন্তে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।