জন্তর-মন্তর কাণ্ডে বড় মোড়! জামিন পেলেও পাঁচ দিনের তিহাড় জেল যাত্রাই ভবিতব্য ককরোচ নেতাদের!

শান্তি বজায় রাখার জন্য দেওয়া বন্ডের শর্ত ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ এবং জন্তর-মন্তরে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের দায়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আষ্টোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় বা বিচারিক হেফাজতে (জুডিশিয়াল কাস্টডি) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দিল্লির এক বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাঁদের পেশ করা হলে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই দুই নেতাকে তিহাড় জেলে রাখা হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় সামান্য স্বস্তি পেয়েছেন তাঁদের অপর এক সহযোগী অজিন্য শিন্ডে। আগামী ছয় মাস শান্তি বজায় রাখা এবং ভালো আচরণ করার শর্তে পাঁচ হাজার টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকা ও সমপরিমাণ জামিনের বিনিময়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার সকালেই এই তিন নেতাকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ব্যারিকেড ভেঙে জন্তর-মন্তর চত্বরে প্রবেশ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র স্লোগান দেওয়া এবং সেখানে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অননুমোদিত প্রবেশ, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা, শান্তি বজায় রাখার বন্ড লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারীকে তাঁর সরকারি কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) বিভিন্ন ধারায় কন্নট প্লেস ও সংসদ মার্গ থানায় দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার আটক হওয়ার পর দাস ও রাঙ্কা এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার একটি বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন। বিশেষ গভীর সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সময় ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিভিন্ন বিক্ষোভের জেরে এই গ্রেফতারি করা হয়েছে।

এই গোটা ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক তীব্র আক্রমণ শাণিয়ে তিনি লিখেছেন, “আশু এবং সৌরভকে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের অপরাধ কী? জন্তর-মন্তরে সসম্মানে দেশের তেরঙ্গা ওড়ানো।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও লেখেন, “একটু হিম্মত দেখান প্রধানমন্ত্রী মোদী। যদি বিরোধ ও ভিন্নমতকে এভাবেই নির্মমভাবে পিষে ফেলতে চান, তবে এই কাপুরুষোচিত উপায়ে লুকিয়ে না থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার সাহস দেখান।”

দিল্লি পুলিশের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর সকালে সৌরভ দাস, আষ্টোষ রাঙ্কা, অজিন্য শিন্ডে সহ সিজেপির প্রায় ১৫ জন সদস্য একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে জন্তর-মন্তর এলাকায় প্রবেশ করেন। উল্লেখ্য, এই চত্বরটিকে আগেই সরকারিভাবে নির্ধারিত বিক্ষোভ প্রদর্শনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পুলিশি বাধা সত্ত্বেও তারা কর্তব্যরত কর্মীদের কাজে বাধা দেন এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেন। সেই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আইনি পদক্ষেপ হিসেবে এই নির্দেশ জারি করেছে।