সপোটা চাষে বাম্পার ফলন! এই গোপন কৌশলগুলি জানলে এক গাছ থেকেই মিলবে দ্বিগুণ লাভ!

সপোটা বা চিকু চাষে কাঙ্ক্ষিত ফলন এবং উন্নত মানের ফল পেতে গাছের সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য যেমন প্রয়োজন সুষম পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, তেমনই জরুরি অকাল ফুল ঝরে পড়ার প্রবণতা রোধ করা। সম্প্রতি বাগান মালিক ও চাষিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন জেলা উদ্যানপালন কর্মকর্তা ডঃ পুনীত কুমার পাঠক। তাঁর মতে, সঠিক সময়ে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও সুষম সার প্রয়োগ করতে পারলে ফসলের গুণগত মান এবং উৎপাদন একলাফে বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।
ভালো মানের সপোটা উৎপাদনের জন্য প্রতিটি পরিণত গাছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোগ্রাম পচানো গোবর সার, ৫০০ গ্রাম নাইট্রোজেন, ২৫০ গ্রাম পটাশ এবং ২৫০ গ্রাম ফসফরাস সুষম পরিমাণে প্রয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গাছের চারপাশের মাটি খুঁড়ে একটি রিং বা পাত্রের আকারে এই সারগুলি মাটি ও গোবরের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এটি গাছকে দীর্ঘসময় ধরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জুগিয়ে সঠিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা বজায় রাখতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়।
মাটির পুষ্টি ঘাটতির কারণে অনেক সময় সপোটা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ডঃ পাঠকের মতে, যেসব এলাকায় জিঙ্ক বা আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অণুপুষ্টির ঘাটতি রয়েছে, সেখানে সুনির্দিষ্ট পরিমাণে জিঙ্ক সালফেট বা ফেরাস সালফেট স্প্রে করা আবশ্যক। এর ফলে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ফল ও পাতার স্বাস্থ্য উজ্জ্বল থাকে।
অন্যদিকে, সপোটা চাষিদের একটি অন্যতম প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হলো অতিরিক্ত ফুল ঝরে যাওয়া। এর ফলে ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ৫০ থেকে ১০০ পিপিএম মাত্রায় জিবেরেলিক অ্যাসিড স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে এই হরমোন স্প্রে করলে ফুল ঝরে পড়ার হার কমে এবং গাছের ফল ধরার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। গোবর ও রাসায়নিক সারের সুষম ব্যবহার, অণুপুষ্টির সঠিক জোগান এবং ফুলের যথাযথ যত্ন—এই সমস্ত পদক্ষেপ একসঙ্গে মেনে চললে যেকোনো সপোটা বাগান থেকেই বাম্পার ফলন ও সর্বোচ্চ বাজারদর নিশ্চিত করা সম্ভব।