আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর স্থগিতাদেশ তুলল হাইকোর্ট, বাড়ছে অস্বস্তি

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ে এল বড়সড় ধাক্কা। মানহানির একটি পুরনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর থাকা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ তুলে নিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের সিঙ্গল বেঞ্চ বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছে, যা তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে, ইন্দোরের প্রাক্তন বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয় ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই মানহানির মামলাটি দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতায় একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আকাশ বিজয়বর্গীয়কে ‘গুণ্ডা’ বলে সম্বোধন করেন। এই মন্তব্যের জেরে আকাশ বিজয়বর্গীয় আদালতের দ্বারস্থ হন এবং অভিযোগ জানান। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ভোপালের বিশেষ আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
সেই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবী আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তিনি একজন নির্বাচিত সাংসদ এবং তাঁর পলাতক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সেই আবেদনের ভিত্তিতে গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
তবে বুধবারের শুনানিতে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। এদিন হাইকোর্টের এজলাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কোনো আইনজীবী বা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। মামলাকারীর অনুপস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করেন বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয়, আবেদনকারী সম্ভবত মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আর আগ্রহী নন। এর পরেই বিচারপতি আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর থাকা সুরক্ষা কবচ বা স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোপালের বিশেষ আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা এখন পুনরায় কার্যকর করার পথ প্রশস্ত হলো। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সহ একাধিক দুর্নীতির তদন্তের মুখোমুখি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যে মানহানি মামলায় এই নতুন আইনি সংকট তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের জন্য অস্বস্তি বাড়াল। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই নির্দেশনামার প্রতিলিপি অবিলম্বে ভোপালের সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন দেখার, এই গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে তৃণমূল সাংসদ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কি না, নাকি তাকে ভোপালের আদালতের মুখোমুখি হতে হয়।