‘পুলিশের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে!’ গুন্ডাদমন বিল নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ কুণাল ঘোষের

বিধানসভায় সোমবার বিপুল ভোটে পাশ হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। কিন্তু এই বিল পাশ হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

কী বললেন কুণাল ঘোষ?

বিলটির বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে কুণাল ঘোষ বলেন, “সবাই গুন্ডামি দমন চায়, কিন্তু আমাদের তো আগে থেকেই আইপিসি (IPC), সিআরপিসি (CrPC) এবং নতুন কোড রয়েছে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাছে অপরাধ দমনের জন্য পর্যাপ্ত ধারা ও আইনি ক্ষমতা রয়েছে।”

তাঁর অভিযোগ, সরকারের আনা এই নতুন বিলটি অনেকাংশেই সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। কুণাল ঘোষের মতে:

  • নাগরিক অধিকার: অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকের যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, এই বিলের সাথে তার সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • পুলিশের ক্ষমতা: এই আইনের মাধ্যমে পুলিশের ক্ষমতা অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা ‘নাগরিক স্বাধীনতা’ খর্ব করতে পারে।

  • বিল পাসের প্রক্রিয়া: কুণাল ঘোষের দাবি, বিলের মধ্যে অনেক বড় বড় ফাঁকফোকর রয়েছে, যা উপেক্ষা করেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার এটি পাশ করিয়ে নিয়েছে।

ইউসিসি (UCC) নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান

শুধু গুন্ডাদমন বিল নয়, এদিন ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, তার ওপর নজর রাখছে দল। তিনি বলেন, “ইউসিসি নিয়ে খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় পেশ করার কথা হয়েছে। আমাদের নেতৃত্ব বিষয়টি দেখছে। আমরা খোলা মনে আলোচনায় রাজি, কিন্তু কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।”

কুণাল ঘোষ আরও জোর দিয়ে বলেন, নতুন কোনো নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। আদর্শগতভাবে সর্বসম্মতিক্রমে আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ে এগোনো উচিত বলে মনে করে তৃণমূল।

রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আনা এই বিলটি বিরোধীদের দমনের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই কুণাল ঘোষ সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, ইউসিসি নিয়েও সরকারের কৌশলী অবস্থানের কথা জানিয়ে শাসকদল একদিকে যেমন আলোচনার দরজা খোলা রাখছে, অন্যদিকে ধর্মীয় সংবেদনশীলতার দিকটিও এড়িয়ে যাচ্ছে না।

বিধানসভায় বিল পাশ এবং কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা পেল।

Pratik Saha
  • Pratik Saha