বৃষ্টির মরশুমে কেন মুখে ব্রণ হয়? ত্বক বাঁচাতে মেনে চলুন এই সহজ রুটিন

গরমের অস্বস্তি শেষে বর্ষা স্বস্তি নিয়ে এলেও, ত্বকের জন্য এই ঋতু কিন্তু মোটেও আরামদায়ক নয়। আর্দ্রতা, বাতাসে ভেসে থাকা দূষণ আর বৃষ্টির জলের অম্লীয় ভাব— সব মিলিয়ে এই সময়ে ব্রণ বা অ্যাকনের সমস্যা ঘরে ঘরে। কেন বর্ষাকালে ত্বকে এমন অস্থিরতা শুরু হয় এবং কীভাবেই বা এর সমাধান মিলবে, জেনে নিন বিস্তারিত।

কেন বাড়ে ব্রণ?

বৃষ্টির জল: বৃষ্টির জলে থাকা অম্লীয় উপাদান ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং লালচে ভাব সৃষ্টি করে।

বাতাসের আর্দ্রতা: বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় লোমকূপ খুলে যায়, ফলে সহজেই ধুলো-বালি ও ময়লা ত্বকে জমে সংক্রমণ ঘটায়।

ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব: আর্দ্র আবহাওয়া ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ।

খাদ্যাভ্যাস: এই সময়ে ভাজাভুজি বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শরীরে সিবাম বা তেলের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা ব্রণের অন্যতম কারণ।

ব্রণ রুখতে ৫টি সহজ রুটিন:
১. সঠিক ক্লিনজার: দিনে অন্তত দু’বার মৃদু এবং পিএইচ (pH) ভারসাম্যযুক্ত ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।
২. টোনারের ব্যবহার: মুখ ধোয়ার পর টি-ট্রি অয়েল বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ ব্রণ-প্রতিরোধী টোনার ব্যবহার করুন। এটি লোমকূপের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার রাখে।
৩. এক্সফোলিয়েশন: ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সপ্তাহে দু’বার এক্সফোলিয়েট করা জরুরি। তবে নিজের ত্বকের ধরণ বুঝে স্ক্রাব বেছে নিন।
৪. হালকা ময়েশ্চারাইজার: বর্ষাকালে ভারী ক্রিম এড়িয়ে চলুন। বদলে ‘নন-কমেডোজেনিক’ (যা লোমকূপ বন্ধ করে না) ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
৫. সানস্ক্রিন মাস্ট: রোদ থাকুক বা মেঘলা আকাশ, বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই এসপিএফ (SPF) ৩০ বা তার বেশি ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন লাগান।

প্রয়োজনীয় কিছু সতর্কতা:

ঘন ঘন মুখে হাত দেবেন না। এতে হাতের জীবাণু ত্বকে ছড়িয়ে পড়ে।

চুল পরিষ্কার রাখুন। তৈলাক্ত বা ঘামে ভেজা চুল যেন বারবার মুখে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। আপনার যদি ত্বকের বিশেষ কোনো সমস্যা থাকে বা ব্রণের সমস্যা অতিরিক্ত হয়, তবে অবশ্যই কোনো চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নিন।