সবজির বাজারে আগুন! বর্ষার অপেক্ষায় নাজেহাল আমজনতা, দাম কমার কি কোনো আশা আছে?

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটার তালিকায় বড় ধাক্কা। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়ার আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল সবজির বাজারে। মে থেকে জুন—মাত্র এক মাসে বাজারে সবজির দামের গ্রাফ যে হারে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাতে নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্তের। ১৫ টাকায় পাওয়া সবজি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা প্রতি কেজি দরে!

কেন লাফিয়ে বাড়ছে দাম?

বিশেষজ্ঞরা এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন:

  • জ্বালানি তেলের দাম: পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় শাকসবজির দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

  • ‘এল নিনো’-র প্রভাব: আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে (প্রায় ৪৩ শতাংশ কম)। এই খরা পরিস্থিতি খরিফ ফসলের জন্য অশনি সংকেত।

  • দেরিতে বর্ষা ও তাপমাত্রা: বর্ষা দেরিতে আসায় এবং তীব্র দাবদাহের কারণে সবজির চারা রোপণ ব্যাহত হয়েছে, যা বাজারে সবজির জোগান কমিয়ে দিয়েছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

মে মাসে ১৭টি প্রধান শাকসবজির মধ্যে অন্তত ৮টির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি দাম বেড়েছে টমেটোর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সবজি-জাতীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫.৩ শতাংশ, যা খাদ্যপণ্যের সাধারণ মূল্যস্ফীতিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। লেবু, বেগুন, গাজর, কাঁচা মরিচ ও ফ্রেঞ্চ বিনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম গত ৩০ দিনে কেজিতে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস:

অর্থনীতিবিদ রজনী সিনহার মতে, বাফার স্টক শক্তিশালী থাকলেও সবজি, ডাল ও ভোজ্য তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বজায় থাকবে। বিশেষ করে বর্ষার জোগান যদি স্বাভাবিক না হয়, তবে আগামী মাসগুলোতে সবজির ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে। সব মিলিয়ে, বর্ষার মরশুমে সবজির বাজারে এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় টান ফেলতে চলেছে।