দুর্নীতি-তোলাবাজি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’,নতুন সরকারের রূপরেখা দিলেন রাজ্যপাল

রাজ্যপাল আরএন রবির ভাষণ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। আগামী সোমবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশ করবেন। এ বারের বাজেট অধিবেশন জনস্বার্থে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের অঙ্গীকার: সূচনা ভাষণে রাজ্যপাল বিগত সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে নতুন সরকারের নীতি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে রাজ্যে যে ভয়ের পরিবেশ ছিল, তা দূর করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। তোলাবাজি, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
নতুন সরকারের বড় পদক্ষেপ: রাজ্যে পালাবদলের মাত্র এক মাসের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে জানান:
অনুপ্রবেশ ও জমি: খোলা সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি দিয়েছে রাজ্য সরকার। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অবকাঠামো ও মেট্রো: বিগত সরকারের আমলে আটকে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প এবং ৩৬টি রেল প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে।
শিল্পায়ন: দীর্ঘ অবহেলার পর রাজ্যে শিল্প স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
জনকল্যাণ: রাজ্যের মানুষের জন্য জনঔষধি যোজনায় ওষুধে ৫০-৮০ শতাংশ ছাড় এবং সার্ভাইক্যাল ক্যানসার নির্মূলে বিনামূল্যে টিকাকরণের ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর ও উন্নত মিড-ডে মিলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও থ্রেট কালচার: রাজ্যপাল স্পষ্ট করেছেন, সরকারি জমি জবরদখলমুক্ত করা এবং বালি পাচার রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয় দেখানোর রাজনীতি রাজ্যে আর বরদাস্ত করা হবে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যপালের এই ভাষণ কার্যত বিগত তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতাকে সামনে রেখে বর্তমান সরকারের আগামী দিনের উন্নয়নের একটি ‘ব্লুপ্রিন্ট’। এখন সোমবার অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশে নতুন করে কোনো আর্থিক চমক থাকে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।