আইটিআর রিফান্ড কি আটকে গেছে? পুরনো বকেয়ার নোটিস আসতেই বড় পদক্ষেপ নিল আয়কর বিভাগ!

আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়া এবং তার ই-ভেরিফিকেশন সফলভাবে সম্পন্ন করার মানেই কর প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ সমাপ্তি নয়। আপনার মূল্যায়ন বর্ষ ২০২৬-২৭-এর রিটার্নে রিফান্ড পাওয়ার কথা থাকলেও যদি পূর্ববর্তী বছরের কোনো কর বা বকেয়া অপরিশোধিত থাকে, তবে আপনার সেই প্রাপ্য টাকা আটকে যেতে পারে। আয়কর আইন অনুযায়ী, যেকোনো পুরনো করের দাবি অমীমাংসিত থাকলে বর্তমান বর্ষের প্রাপ্য রিফান্ড থেকে সেই বকেয়া অর্থ আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে কেটে নেওয়ার সম্পূর্ণ আইনি ক্ষমতা রয়েছে আয়কর দফতরের। ফলে কোনো করদাতা আয়কর দফতরের থেকে ‘আউটস্ট্যান্ডিং ট্যাক্স ডিমান্ড’ (Outstanding Tax Demand) নোটিস পেলে ভয় না পেয়ে ধাপে ধাপে সেটি যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

পুরনো করের দাবি কীভাবে ই-ফাইলিং পোর্টালে দেখবেন? আয়কর দফতরের অফিশিয়াল ইনকাম ট্যাক্স পোর্টাল-এ লগইন করে সহজেই এই বকেয়া করের বিবরণ দেখে নেওয়া যায়। প্রথমে পোর্টালের মূল মেনু থেকে ‘Pending Actions’ অপশনে যান। সেখান থেকে ‘Response to Outstanding Demand’ অপশনে ক্লিক করলেই আপনার প্যান কার্ডের অধীনে থাকা বর্তমান ও পুরনো সমস্ত করের দাবি, হিসাবের মূল্যায়ন বর্ষ এবং তার বর্তমান স্টেটাস দেখতে পাবেন। প্রয়োজনে সেই সংক্রান্ত সরকারি নোটিস ডাউনলোডও করতে পারবেন।

নোটিস পেলে করদাতার জন্য ৩টি প্রধান আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, যদি করের দাবি সম্পূর্ণ সঠিক হয়, তবে আপনি পোর্টালে ‘Demand is Correct’ নির্বাচন করে ‘Pay Now’ বা ‘e-Pay Tax’ অপশনের মাধ্যমে বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারেন। একবার ডিমান্ড স্বীকার করে নিলে পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত চাওয়া কঠিন হতে পারে, তাই হিসাব, মূল্যায়ন বর্ষ ও অঙ্কের ভুলভ্রান্তি আগে ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। দ্বিতীয়ত, যদি বকেয়া ডিমান্ড সঠিক হয় কিন্তু আপনি পূর্বে তা পরিশোধ করে থাকেন, তবে পুনরায় টাকা জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পোর্টালে চালান জমা দেওয়ার বিবরণ—যেমন টাকা জমা দেওয়ার তারিখ, চালানের বিএসআর কোড, সিরিয়াল নম্বর ও টাকার অঙ্ক উল্লেখ করে চালানের কপি আপলোড করে দিন। তৃতীয়ত, যদি করের দাবি ভুল বা অসত্য মনে হয়, তবে টিডিএস ক্রেডিট মিস হওয়া বা সফটওয়্যারে তথ্যের অমিলের কারণে ‘Disagree with Demand’ বেছে নিয়ে উপযুক্ত প্রমাণ জমা দিন।

নোটিস উপেক্ষা করলে বা ভুয়ো ফাঁদে পা দিলে বড় বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নোটিসের উত্তর না দিলে আপনার প্রাপ্য রিফান্ড অ্যাকাউন্ট সমন্বয় করে কেটে নেওয়া হবে এবং অমীমাংসিত বকেয়ার ওপর প্রতি মাসে অতিরিক্ত সুদ চাপতে পারে। পাশাপাশি, প্রতারকেরা নোটিসের ভয় দেখিয়ে ভুয়ো পেমেন্ট লিঙ্ক পাঠাতে পারে, তাই অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক না করে যা করার সরাসরি সরকারি পোর্টালে গিয়েই করুন। মূল্যায়ন বর্ষ ২০২৬-২৭-এর ক্ষেত্রে করদাতার বিভাগ ও আইটিআর-এর ধরণভেদে ফাইল করার শেষ তারিখ আলাদা হতে পারে, তাই সময় থাকতে পোর্টাল চেক করে নোটিসের প্রতিক্রিয়া দিন।