কলকাতা নিবাসীর জন্য বিরাট স্বস্তি! আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলল জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের পোর্টাল

কলকাতা পুর এলাকার নাগরিকদের জন্য স্বস্তির খবর। প্রায় আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলে দেওয়া হল কলকাতা পুরসভার (KMC) জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের (Birth & Death Certificate) কেন্দ্রীয় পোর্টাল। পোর্টালটি পুনরায় চালু হওয়ায় পুরনো নথি থেকে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি এবং তার ডিজিটাল কপি পাওয়ার পথও আবার সুগম হলো। গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই পরিষেবা কার্যত বন্ধ ছিল।

চলতি বছরের ২০ মে থেকে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের পোর্টালটি আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নতুন সার্টিফিকেট ইস্যু করার কাজ সীমিতভাবে চললেও, যাঁরা অনেক আগে জন্মেছেন বা মারা গিয়েছেন—সেই পুরনো শংসাপত্রগুলি ইস্যু করা বা ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করার প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল। প্রায় দু’মাস একুশ দিন পর গত সোমবার অবশেষে সেই কেন্দ্রীয় পোর্টালটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।

এছাড়াও, শংসাপত্র স্বাক্ষরকারী রেজিস্ট্রার কারা হবেন, তা নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নতুন নিয়মের জেরে কলকাতার শ্মশানঘাট ও কবরখানাগুলি থেকেও ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান ব্যাহত হয়েছিল। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় নতুন রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগে সবুজ সঙ্কেত মিলতেই এবং তাঁদের নতুন লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরেই গত শুক্রবার থেকে শ্মশান ও কবরস্থান থেকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার কাজ শুরু হয়।

জমা রয়েছে হাজার হাজার আবেদন

দীর্ঘদিন পরিষেবা বন্ধ থাকায় কলকাতা পুরসভায় পুরনো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, কেবল কলকাতাতেই প্রায় ১৪ থেকে ১৬ হাজার আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। স্কুল-কলেজে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি, বিভিন্ন সরকারি পরিসেবা গ্রহণ কিংবা বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে এই শংসাপত্রের অত্যন্ত প্রয়োজন থাকায় সাধারণ মানুষ তীব্র সমস্যায় পড়েছিলেন। পুর স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, এই বিপুল ব্যাকলগ পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে।

জালিয়াতি রুখতে কড়া নজরদারি

এদিকে সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন পরিষেবা দিতে জাল শংসাপত্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যসচিব জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী জালিয়াতি রুখতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। পুরনো সমস্ত তথ্য স্ক্যান করে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হবে এবং কোনওরকম গরমিল ধরা পড়লে জেলাশাসক স্তরে তার কড়া ভেরিফিকেশন করা হবে। দোষীদের রেয়াত করা হবে না বলেই প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আপাতত এই কেন্দ্রীয় পোর্টালটি শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভা এলাকাতেই চালু হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলির রেজিস্ট্রারদের তালিকা জেলাশাসকদের কাছে আসার পর, পর্যায়ক্রমে বাকি জেলাগুলিতেও এই পোর্টাল চালু করা হবে।