যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ঝড়! সিজেপি আন্দোলন নিয়ে সরাসরি আলোচনার টেবিলে আসার বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পার্লামেন্টের বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে ওঠার মধ্যেই আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবি ও সিজেপির (CJP) আন্দোলন নিয়ে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা সামনে এসেছে। প্রথমে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছিলেন। এবার খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে, বর্তমান সরকার যেকোনো গঠনমূলক আলোচনা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শুধু তাই নয়, তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আলোচনার টেবিলে বিরোধী শিবিরের তোলা সমস্ত কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতেও তিনি একশো শতাংশ প্রস্তুত রয়েছেন।

তবে সরকারের এই সমঝোতার বার্তার পরই বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর সোজা সাপ্টা দাবি, সংসদে দাঁড়িয়ে অমিত শাহের দীর্ঘ ভাষণ শোনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ বা সময় বিরোধীদের নেই। বিরোধী শিবির কেবল একটি নির্দিষ্ট এবং কড়া প্রশ্নেরই সুনির্দিষ্ট উত্তর জানতে চায়—ঠিক কার বা কাদের গোপন নির্দেশে দিল্লির রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে নির্মমভাবে ছররা বন্দুক বা পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল?

দেশজুড়ে চলা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং সামনে এসে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা বলে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরকারের এই প্রস্তাবকে এড়িয়ে গিয়ে সরাসরি পুলিশি দমনপীড়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জবাবদিহি দাবি করছেন। এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক সংঘাতে আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতি কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।