‘অসুর’ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! জগৎ মুখার্জি পার্কে দেখা মিলবে রোবট-এআইয়ের

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এখন এই একটি শব্দই পৃথিবীর ভবিষ্যত বদলে দিচ্ছে। এবার সেই প্রযুক্তির ভালো এবং মন্দ দিকগুলোকেই থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী জগৎ মুখার্জি পার্ক। ৮৯ বছরে পা দেওয়া তাদের এবারের থিম, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আশীর্বাদ না অভিশাপ?’

টাইম মেশিনে ৫০ বছর এগিয়ে

পুজো কমিটির কর্মকর্তা দ্বৈপায়ন রায় জানান, এবারের মণ্ডপে এলে দর্শকরা একটি টাইম মেশিনের মাধ্যমে ৫০ বছর এগিয়ে যেতে পারবেন। সেখানে তারা দেখতে পাবেন, কীভাবে এআই প্রযুক্তি মানবসভ্যতাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। শিল্পী সুবল পালের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই মণ্ডপে প্রবেশ করলে রোবট এবং এআইয়ের দুনিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে দর্শকদের।

অসুর বধ করবে মা!
মণ্ডপের মূল অংশে প্রতিমার সামনে দেখা যাবে এক ভিন্ন চিত্র। শিল্পী সুবল পাল জানান, মহিষাসুরকে এবার এআইয়ের মন্দ দিক হিসেবে তুলে ধরা হবে। মা দুর্গা সেই ‘মন্দ এআই’কে বধ করবেন। মণ্ডপের ভিতরে ছোট ছোট গর্তে দেখানো হবে যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা মানুষের ছবি। এর মাধ্যমে বোঝানো হবে, এআইয়ের কারণে কীভাবে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সংবেদনশীলতা কমে যাচ্ছে।

এআই-এর ভালো এবং মন্দ দিক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি এর কিছু বিপদও আছে। চিকিৎসা থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ— বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি বিপ্লব এনেছে। কিন্তু পাশাপাশি বেকারত্ব বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, এবং নজরদারির মতো ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এ বছরের এই থিমের মাধ্যমে জগৎ মুখার্জি পার্ক চাইছে, মানুষ যেন এআইয়ের ভালো এবং মন্দ উভয় দিক সম্পর্কে সচেতন হন।

এই ভিন্নধর্মী ভাবনা নিয়ে শিল্পী সুবল পাল এবং পুজো কমিটি আশাবাদী যে, তাদের এই মণ্ডপ এবং থিম দর্শকদের মন জয় করবে এবং পুজোর আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলবে।