ভোটের আগে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়ের মাটি। এবার সরাসরি ক্যানিং পূর্বের ISF প্রার্থী আরাবুল ইসলামের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠল। সোমবার সকালে জীবনতলা এলাকায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর এবং তাঁকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে শাসানোর অভিযোগে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় জীবনতলা ও সংলগ্ন এলাকা।
হামলার সেই হাড়হিম করা মুহূর্ত
এদিন সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে জীবনতলা যাচ্ছিলেন আরাবুল ইসলাম। ISF-এর অভিযোগ, স্থানীয় এক পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে দুষ্কৃতীরা তাঁদের কনভয়ে হামলা চালায়।
লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র: আরাবুল ইসলামের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে লাঠির পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র বা ‘ছোট মেশিন’ ছিল।
গাড়ি ভাঙচুর: লাঠির ঘায়ে একের পর এক ৭-৮টি গাড়ির কাচ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
আতঙ্কে প্রার্থী: হামলায় মেজাজ হারিয়ে আরাবুল বলেন, “আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। হাফিজুল আর শাহজাহান এই হামলা চালিয়েছে। অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছি আজ।”
নিষ্ক্রিয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী?
ISF-এর পক্ষ থেকে সবথেকে বড় অভিযোগ তোলা হয়েছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তাঁদের দাবি, জীবনতলা থানার পুলিশ এবং এলাকায় মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে, কিন্তু কেউ বাধা দেয়নি। এই ঘটনার প্রতিবাদে ভাঙড়ের ঘটকপুর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ISF কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে।
“উনি সমাজবিরোধী”: পাল্টা শওকত মোল্লা
এই হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন:
“আরাবুল ইসলাম একজন সমাজবিরোধী। র্যালি করার নাম করে উনি নোংরা খেলা খেলছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এমন বর্বর লোকের কোনও মন্তব্য নিয়ে আমি প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি নই।”
ভাঙড়ে আশঙ্কার কালো মেঘ
প্রথম দফার ভোটের আগে ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্ব এলাকায় এই ধরণের সংঘর্ষে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। একদিকে ISF যখন প্রার্থীর নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব, অন্যদিকে তৃণমূল একে সাজানো নাটক বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে বলে খবর। এখন দেখার, এই রক্তক্ষয়ী রাজনীতির মোড় ২৩ তারিখের ব্যালট বাক্সে কী প্রভাব ফেলে।





