২০২৬ সালের পুণ্যময় চারধাম যাত্রার মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। ১৯শে এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ায় গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী ধামের দ্বার উন্মোচনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই আধ্যাত্মিক সফর। ঐতিহ্য মেনে আগামী ২২শে এপ্রিল বাবা কেদারনাথ এবং ২৩শে এপ্রিল ভগবান বদ্রীনাথের মন্দির ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু কেন প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী উত্তরাখণ্ডের এই যাত্রার জন্য হরিদ্বারকেই প্রারম্ভিক বিন্দু হিসেবে বেছে নেন? এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন ঐতিহ্য।
কেন হরিদ্বার থেকেই যাত্রা শুরু?
হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে হরিদ্বারকে বলা হয় ‘দেবতাদের প্রবেশদ্বার’। বিশ্বাস করা হয়, উত্তরাখণ্ডের দেবভূমিতে প্রবেশের আগে হরিদ্বারের পবিত্র গঙ্গায় স্নান করে নিজেকে শুদ্ধ করা আবশ্যক। পুণ্যার্থীদের মতে, গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে পাপমোচন না করে চারধাম যাত্রা করলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই কারণেই শতাব্দী প্রাচীন এই প্রথা আজও অমলিন।
চারধামের পৌরাণিক উপাখ্যান:
এই যাত্রার প্রতিটি ধামের রয়েছে নিজস্ব মহিমা ও ইতিহাস:
গঙ্গোত্রী ধাম: এটি মা গঙ্গার মর্ত্যে অবতরণের পুণ্যভূমি। রাজা ভগীরথ তাঁর পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন, যার ফলে স্বর্গ থেকে গঙ্গা মর্ত্যে নেমে আসেন। যদিও গঙ্গার উৎস গৌমুখ, কিন্তু গঙ্গোত্রী ধামেই তাঁর পূজা হয়।
যমুনোত্রী ধাম: সূর্যকন্যা এবং যমরাজের বোন যমুনার এই ধামে স্নান করলে অকালমৃত্যুর ভয় কেটে যায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।
কেদারনাথ ধাম: দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এই ধাম শিবের মহিমায় উজ্জ্বল। পাণ্ডবরা যখন যুদ্ধের পাপ ধুয়ে ফেলতে মহাদেবের খোঁজ করছিলেন, তখন শিব ষাঁড়ের রূপ ধরে এখানে আত্মগোপন করেন। পরে পাণ্ডবদের ভক্তি দেখে তিনি এখানে জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে প্রতিষ্ঠিত হন।
বদ্রীনাথ ধাম: ভগবান বিষ্ণুর এই ধামে মা লক্ষ্মী তাঁকে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ‘বদ্রী’ বা বুনো বরই গাছের রূপ ধারণ করেছিলেন। মোক্ষ লাভের জন্য বদ্রীনাথ দর্শন হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
চারধাম যাত্রা কেবল একটি পর্যটন বা তীর্থ ভ্রমণ নয়, এটি আধ্যাত্মিক মুক্তি ও পরম শান্তির এক পথ। জল, শক্তি, শিব এবং বিষ্ণু—এই চার উপাদানের সংমিশ্রণে গঠিত এই যাত্রা জীবনের পূর্ণতা লাভের প্রতীক।





