ভারতের অর্থনীতির দাঁড়িপাল্লায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সময়কাল এক নতুন মাইলফলক। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতের প্রতিটি সরকারের আমলেই কিছু না কিছু অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু পরিসংখ্যানের নিরিখে নরেন্দ্র মোদী যে উচ্চতা স্পর্শ করেছেন, তা এক কথায় নজিরবিহীন। ঠিক কাকে টেক্কা দিয়ে তিনি এই জায়গায় পৌঁছালেন? তথ্য বিশ্লেষণ করলেই মেলে সেই উত্তর।
প্রবৃদ্ধির গ্রাফ ও মোদী ফ্যাক্টর: স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলোতে ভারত মূলত কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবেই এগিয়েছে। কিন্তু গত এক দশকে জিডিপি (GDP)-র লক্ষ্যমাত্রা এবং অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় যে দ্রুত পরিবর্তন এসেছে, তা মোদী সরকারের অন্যতম সাফল্যের জায়গা।
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি: নরেন্দ্র মোদীর শাসনামলে ভারত বিশ্বের দশম বৃহত্তম অর্থনীতি থেকে লাফিয়ে উঠে বর্তমানে পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
ডিজিটাল বিপ্লব: ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট থেকে শুরু করে ই-গভর্ন্যান্স—ভারতের অর্থনীতিতে এই ডিজিটাল রূপান্তর বিশ্বের অন্য কোনো বড় অর্থনীতির দেশে এত দ্রুত সম্ভব হয়নি।
কাকে টেক্কা দিলেন মোদী? রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী মূলত একটি ধারাবাহিক দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে যে ‘লাইসেন্স রাজ’ বা ধীর গতির অর্থনীতির ট্র্যাডিশন চলছিল, মোদী সরকার সেটিকে ভেঙে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘পিএলআই (PLI) স্কিম’ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে আমূল বদলে দিয়েছে। তিনি কেবল বিগত কয়েক দশকের কংগ্রেস জমানার প্রবৃদ্ধির হারের রেকর্ডই ভাঙেননি, বরং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন।
কেন এই সাফল্য অসামান্য?
পরিকাঠামো উন্নয়ন: বিগত ১০ বছরে যে গতিতে হাইওয়ে, বিমানবন্দর এবং রেললাইন তৈরি হয়েছে, তা স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ কয়েক দশকের গতির সাথে তুলনীয়।
এফডিআই (FDI) প্রবাহ: ভারতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
উদ্যোক্তা তৈরির সংস্কৃতি: স্টার্টআপ ইন্ডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের দেশ।





